কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা ঃ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, সাচার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মোবারক ৩ পুলিশ কনস্টেবল ২ সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার কচুয়া উপজেলার ২নং পাথৈর ইউনিয়নের বারৈয়ারা মোড়ে কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ইসহাক শিকদার ও শাহজাহান শিশির এর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সাচার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস, আই মোবারক ৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামীলীগের একক চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণ করতে গতকাল স্থানীয় এমপি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর কচুয়ায় আসার কথা থাকলে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে ইসহাক শিকদারের সমর্থকরা বায়েক মোড়ে জড়ো হতে থাকে। অন্য দিকে শাহজাহান শিশিরের সমর্থকরাও একই স্থানে জড়ো হয়। দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইসহাক শিকদার গ্র“পের সমর্থকরা শাহজাহান শিশিরের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। হামলা চলাকালে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোঃ চাঁন মিয়া ওরফে সন্ত্রাসী চান্দু, শর্টগান উচু করে গুলি করার হুমকি দেয়ার দৃশ্য স্থানীয় সাংবাদিক কচুয়া প্রেসকাবের সাবেক সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম শিকদার ও কচুয়া কন্ঠের প্রধান সম্পাদক মোঃ আকাশকে ক্যামেরায় ধারণ করতে দেখে ইসহাক শিকদারের সমর্থকরা প্তি হয়ে উভয় সাংবাদিকের ২টি ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে তাদের রাস্তায় ফেলে বেদম প্রহার করে। এ ঘটনার পর কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন ও কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন মজুমদার ঘটনাস্থলে আসেন। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় সাংবাদিক খোরশেদ আলম শিকদারকে গুরুতর আহত দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যান্য আহতরা হলো, পুলিশের কনস্টেবল আবুল কালাম, রাজন ,নুরুল ইসলাম, আ’লীগ কর্মী আশ্রাফ উদ্দীন সবুজ, মামুন, রতন, আলমগীর আখন্দ, জুয়েল সরকার, লিটন, কাউছার, আলী আক্কাছ । তাদের কচুয়া, গৌরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন কিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
উল্লেখ্যঃ এ ঘটনায় ঢাকা-কচুয়া সড়ক ৪ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে উভয় গ্র“পের সমর্থকরা। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম দর্ভোগ পোহাতে হয়। অবরোধ চলাকালে উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা ঢাকা কচুয়া রাস্তায় কয়েকটি বাস, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অটোরিক্সা ভাংচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে অবরোধকারীরা পুলিশের উপর প্তি হয়ে পিস্তল, রাইফেল ছিনিয়ে নেয়। যা পরে পুলিশ উদ্ধার করতে সম হয়।
ঘটনার পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি ওই সড়ক দিয়ে কচুয়া আসার পথে টেগুরিয়ার শিমুলতলী নামক স্থানে পৌঁছলে ইসহাক সিকদার সমর্থকগণ গত শুক্রবার কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক ঘোষিত ইসহাক সিকদারের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার ও তাকে পুনরায় দলীয় সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণার দাবী জানায়। এসময় তার কয়েকশত সমর্থক রাস্তায় শুয়ে অবরোধের সৃষ্টি করে। অবস্থার পরিপ্রেেিত ইসহাক সিকদার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক কথিত সভায় ইসহাক সিকদারের বহিস্কারাদেশ বৈধ নয়। আজকের (৮ মার্চ শনিবার) দলের বর্ধিত সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার আশ্বাসে ইসহাক সিকদার সমর্থকরা অবরোধ তুলে নেয়। পুলিশকে মারধর করা অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা ও গাড়ী ভাংচুরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন মজুমদার।

No comments for: "সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মখা আলমগীরকে অভ্যর্থনা দিতে গিয়ে কচুয়ায় আ’লীগের ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে সাংবাদিক পুলিশসহ আহত ২০"
Leave a Reply