স্টাফ রিপোর্টার ঃ
গতকাল শনিবার ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস উপল্েয বিষ্ণুপুর-মুন্সেফ কোয়াটার খায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ (প্রস্তাবিত) ও ডায়াবেটিক সেন্টারে সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিনশতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে রক্তের সুগার পরীা করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় বিএমএ’র সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় স্বাচিপের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমেক এনেস্থেশিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মহসিনুজ্জামান চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাচিপের কার্যকরী পরিষদ সদস্য, জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের পরিচালক ও জেলা বিএমএ’র ট্রেজারার ডা. মোহাম্মদ আতাউর রহমান জসিম। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মোঃ মোসলেম উদ্দিন, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক শ্যামল মজুমদার, ডা. কিশোর কুমার চক্রবর্তী, ডা. ফারহানা, ডা. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
আগামীকাল শনিবার রাজবাড়ী সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দুপুরে রাজবাড়ীতে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। শনিবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে তার।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।
ভারত দল: শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, আম্বাতি রাইডু, দিনেশ কার্তিক, স্টুয়ার্ট বিনি, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ সামি
শ্রীলঙ্কা দল: কুশল পেরেরা, লাহিরু থিরিমানে, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, দিনেশ চান্দিমাল, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, চতুরঙ্গা ডি সিলভা, থিসারা পেরেরা, সচিত্রা সেনানায়েকে, লাসিথ মালিঙ্গা, অজন্তা মেন্ডিস
কুমিল্লা: মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল-মুরাদনগর সড়কের সোনাকান্দা নামক স্থানে শুক্রবার সকাল ৬টায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, মোঃ শাহ্ আলম (৩৫), মোঃ আলাউদ্দিন (৭০) ও মো: মোতালেব (৭৫)। নিহতরা সকলেই নরসিংন্দী জেলার রায়পুরথানার টকিপুর গ্রামের বাসীন্দা।স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সোনাকান্দা দরবার শরিফে ২ দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল শেষে শুক্রবার সকালে বাসে করে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে শ্রীকাইল-মুরাদনগর সড়কের সোনাকান্দা নামক স্থানে বাসটি খাদে পড়ে যায়।এ সময় ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন। আহত ৩১ জনকে মুরাদনগর উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার এক জনকে মৃত্য ঘোষণা করেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি,
আজ আন্দোলনের স্মৃতি জড়িত অমর একুশের গ্রন্থমেলার শেষ দিন অাজ। এক বছরের জন্য আবার থেমে যাবে লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের মুক্তবুদ্ধি চর্চার মিলনক্ষেত্র এ গ্রন্থমেলা। আবেগ, উচ্ছ্বাস আর ভালবাসার এ মিলনমেলা এবার বাংলা একাডেমি চত্বরের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থান করে নিয়েছে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গতবছর শাহবাগ চত্বরে তরুণ প্রজন্মের যে গণজাগরণ দেখা গেছে, সে চেতনাকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত একাধিক বই এবারে গ্রন্থমেলাকে দিয়েছে অন্যমাত্রা। এমনই নানা ঘটনার মধ্যদিয়ে আজ শুক্রবার পর্দা নামবে বাঙালির গর্বের ও জ্ঞানের মেলার। এ প্রসঙ্গে ঐতিহ্য প্রকাশনীর কর্ণধার আরিফুর রহমান নাইম বলেন, প্রত্যেকবারই মেলার শেষে আমাদের মন খারাপ থাকে। কারণ একমাস বইকে ঘিরে শিশু-বুড়ো, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের যে উৎসবের আমেজ থাকে, তার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার সৌভাগ্য এ মেলা ছাড়া আর হয়ে ওঠে না। তাই মন খারাপ থাকে। তবে এবার সে কারণে মন খারাপের থাকলেও আরেকটি কারণে মন ভাল। সেটি হলো মেলার পরিসর এবার বেড়েছে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসেছে। এতে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি যেমন পূরণ হয়েছে, তেমনি বেচাকেনাও আগের চেয়ে বেশ ভাল হয়েছে। এবারের মেলার সেরা বই প্রকাশকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারো বিক্রির শীর্ষে রয়েছেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি আমাদের মাঝে আর নেই, কিন্তু তার লেখা উপন্যাস ‘মুক্তিযুদ্ধ ও আমার বাবা’ বিক্রির র্শীষে রয়েছে। এর পাশাপাশি তাকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই, স্মারকগ্রন্থও বেশ ভাল বিক্রি হচ্ছে। তার পরেই রয়েছে তার অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই। মেলায় বেশ ভাল বিক্রি হচ্ছে ঐতিহ্যের ঢাকা অভিধান ও গালি অভিধান, অনিন্দ্য প্রকাশনীর দেশ বিভাগ প্রভৃতি। এছাড়া বরাবরের মত এবারও মেলায় মোট বিক্রির শীর্ষে রয়েছে বাংলা একাডেমী। একাডেমীর অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকারণ, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, ফেরদৌসীর শাহনামা সমগ্র প্রভৃতি বেশ বিক্রি হচ্ছে। তরুণ লেখদের মধ্যে তৌহিদুর রহমান, পূরবী বসু প্রমুখের বইয়ের বিক্রি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। হুমায়ুন আজাদ দিবস পালিত ২০০৫ সালের ২৭ ফেব্র“য়ারি পরমানু শক্তি কমিশনের সামনে প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের উপর হামলা চালায় মৌলবাদী গোষ্ঠী। আর এ দিনটি স্মরণে আজ বৃহস্পতিবার হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবিতে বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউজের সামনে প্রতিবাদ সভা করে লেখক,প্রকাশক ও পাঠকগণ। প্রতিবাদ দিবসটির আয়োজন করে আগামী প্রকাশনী।
নতুন বই বৃহস্পতিবার মেলার ২৭তম দিনে নতুন বই এসেছে ১২২ টি। এরমধ্যে গল্প-১৩টি, উপন্যাস-১২টি, প্রবন্ধ-৫টি, কবিতা-২৯টি, গবেষণা-৫টি, ছড়া-৫টি, শিশুতোষ-৮টি, জীবনী-৫টি, মুক্তিযুদ্ধ-২টি, বিজ্ঞান-১টি, ভ্রমণ-২টি, ইতিহাস-২টি, রাজনীতি-১টি, চিকিৎসা-৩টি, রম্য/ধাঁধা-১টি, ধর্মীয়-৩টি, অভিধান-১টি, সায়েন্স ফিকশন-২টি এবং অন্যান্য-২২টি। এছাড়া মেলার নজরুল মঞ্চে ১৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।
মেলার মূলমঞ্চে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে আজ অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের নবজাগৃতি ও তরুণ প্রজন্ম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. সোনিয়া নিশাত আমিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শাহরিয়ার কবির, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, নুজহাত চৌধুরী এবং আলম তালুকদার। প্রাবন্ধিক বলেন, শাহবাগের সাম্প্রতিক গণজাগরণ ছিল বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির সংগ্রাম। ভ্রান্ত ইতিহাসের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পুনর্জাগরণের লড়াই। এই আন্দোলনের একটি বিশ্ব-চারিত্র্য আছে। সারা বিশ্বের মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্রে শাহবাগের যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলন পথিকৃতের ভূমিকা পালন করবে। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, শাহবাগের সাম্প্রতিক নবজাগৃতির চেতনায় ধর্মনিরপেক্ষ-মানবতাবাদীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।
বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার ২০১৩ প্রদান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার ২০১৩ প্রদান অনুষ্ঠান। প্রবাসে বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হলো। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকরা হলেন- ইসহাক কাজল, ড. গোলাম আবু জাকারিয়া এবং ফারুক আহমদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক শামস্জ্জুামান খান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি প্রফেসর এমেরিটাস আনিসুজ্জামান।
আজ অনুষ্ঠান
বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হয় বেলা ৩টায় এবং শেষ হয় রাত ৯টায়। আজ শেষ দিন মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং শেষ হবে যথারীতি রাত ৯টায়। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় অমর একুশে উদ্যাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কণ, সংগীত এবং সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শিশুসাহিত্যিক এখ্লাসউদ্দীন আহ্মদ। সভাপতিত্ব করবেন মোহিত কামাল। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বিস্ময়কর সাফল্যের উৎস এবং এর সাম্প্রতিক সমস্যা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, মেসবাহ কামাল এবং জিয়া রহমান। সভাপতিত্ব করবেন কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ। গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান আজ সন্ধ্যা ৬টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৪-র সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। শুভেচ্ছা বক্তৃতা দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। গ্রন্থমেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৪-র সদস্য-সচিব ও একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লা মহানগরীর রেইসকোর্সে টাইমস্ ইন্টান্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ এর বার্ষিক ক্রীড়া,সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরনী ও কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। টাইমস্ স্কুলের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম মজুমদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সরকারি কলেজ’র অধ্য প্রফেসর মেজর মো:ইয়াকুব আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদ,“দৈনিক রুপসী বাংলা’’পত্রিকার সহ-সম্পাদক আলহাজ্ব মো:আরিফ অরুণাভ,টাইমস্ গ্র“পের ভাইস চেয়ারম্যান এড.এস.এম জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অত্র স্কুলের উপাধ্য কাজী মো:ইকরামুল হক,শিার্থীর অভিভাবক ওয়াসির আহম্মেদ,শামসুল আলম মিয়াজী। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিাথীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অত্র স্কুলের শিক বিল্লাল হোসেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগামী ২
মার্চ থেকে অনুষ্ঠিতব্য ২০১২ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স
পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারী বুধবার জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত পূর্বনির্ধারিত সময় দুপুর দেড়টার পরিবর্তে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে।
কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্ঠাণ ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সমাজকল্যাণ সম্পাদক, দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা সিটি প্রেসক্লাব সম্পাদক তাপস চন্দ্র সরকারের ঔরষজাত ও রিতা রাণী সরকার রীমা’র গর্ভজাত প্রথম কন্যা সন্তান গত সোমবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার জন্ম গ্রহণ করেন।
বিবাহের ৩ বছর পর কুমিল্লার প্রখ্যাত গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা: মলিনা রাণী কুন্ডু’র তত্ত্বাবধানে কন্যা সন্তানটি প্রস্রব হয়। এ সংবাদ পেয়ে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে দেখতে যান- কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিভোর কুমার বিশ্বাস, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক শ্রমিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক সেলিম, কুমিল্লা সিটি প্রেসক্লাব এর সহ-সভাপতি মোঃ শাহানাজ মিয়া, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টাণ ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কমল চন্দ খোকন, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল দে, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ আদর্শ সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক হারাধন শীল, সদস্য সচিব ডা: মধুসূদন রায়, বাংলাদেশ ছাত্র-যুব-ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মধুসূদন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়, দৈনিক একুশে সংবাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি অমল মজুমদার ও তাঁর আত্মীয় স্বজন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
বিবাহের ৩ বছর পর কুমিল্লার প্রখ্যাত গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা: মলিনা রাণী কুন্ডু’র তত্ত্বাবধানে কন্যা সন্তানটি প্রস্রব হয়। এ সংবাদ পেয়ে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে দেখতে যান- কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিভোর কুমার বিশ্বাস, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক শ্রমিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক সেলিম, কুমিল্লা সিটি প্রেসক্লাব এর সহ-সভাপতি মোঃ শাহানাজ মিয়া, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টাণ ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কমল চন্দ খোকন, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল দে, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ আদর্শ সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক হারাধন শীল, সদস্য সচিব ডা: মধুসূদন রায়, বাংলাদেশ ছাত্র-যুব-ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মধুসূদন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়, দৈনিক একুশে সংবাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি অমল মজুমদার ও তাঁর আত্মীয় স্বজন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ি সুবাস মজুমদার এর ঔরষজাত ও কাজল রাণীর গর্ভজাত একমাত্র কন্যা রিতা রাণী মজুমদার এর সাথে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সদস্য নিখিল চন্দ্র সরকার ( নিখিল মুহুরী) এর একমাত্র ছেলে সাংবাদিক তাপস চন্দ্র সরকার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
খবরটা টালমাটাল করে দিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে
(বিপিএল) ফিক্সিংয়ের ঘুণপোকা ছড়ানোর খবর ক্ষোভ-হতাশার সঙ্গে জন্ম দিয়েছিল
বিস্ময়েরও। এ ঘটনায় গঠিত বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির ট্রাইব্যুনালের দেওয়া
কালকের রায়ও একই রকম বিস্ময়কর। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ (আকসু)
ফিক্সিংয়ে জড়িত বলে ১০ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনলেও
ট্রাইব্যুনাল এঁদের ছয়জনকেই নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন। রায়টা এমনই বিস্ময়কর
যে ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়ে বিসিবি এবং আইসিসি কিছুক্ষণের মধ্যেই এক যৌথ
বিবৃতিতে এ নিয়ে হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে।
চারজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তবে এর মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রেই ট্রাইব্যুনালের কোনো ভূমিকা নেই। কারণ বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার কৌশল লোকুয়ারাচ্চি ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান লু ভিনসেন্ট নিজেরাই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করা বাকি সাতজনের মধ্যে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন শুধু ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরীর ছেলে ও ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিহাব জিশান চৌধুরী। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস-চিটাগং কিংস ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন তিনি।
রায় প্রদান শেষে ট্রাইব্যুনাল-প্রধান সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা ১০ জনের বিচার করেছি। এর মধ্যে তিনজন দোষ স্বীকার করেছেন। একজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই চারজনের শাস্তির ব্যাপারে আবার শুনানি হবে।’ ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তে বিস্ময়ের মূল কারণ, আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ (আকসু) দীর্ঘ তদন্তের পর সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদিসহই অভিযোগ এনেছিল নয়জনের বিরুদ্ধে। গত আগস্টে বিসিবি ও আইসিসির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সেটি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ না করা হলেও সেটি দ্রুতই সংবাদমাধ্যমে চলে আসে। অধিকতর তদন্তে বিপিএলে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের অধিনায়ক লু ভিনসেন্টের নামও যোগ হয় এই নয়জনের সঙ্গে।
অভিযুক্ত দশজনের ছয়জনকেই নির্দোষ বলে রায় দেওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে আকসুর তদন্ত। আইসিসির তাই বিস্মিত ও হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। রায় ঘোষণার পরপরই বিসিবি ও আইসিসির যৌথ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেটিরই প্রকাশ ঘটেছে, ‘আইসিসি ও বিসিবি সিদ্ধান্ত জেনেছে এবং তাতে একই সঙ্গে বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে।’ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। দুই সপ্তাহ পর পূর্ণাঙ্গ রায় দেওয়ার কথা।
আকসুর নীতিমালা অনুযায়ী ফিক্সিংয়ের বিচারকাজের জন্য গত ১৪ অক্টোবর সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রশিদকে প্রধান করে ১১ সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে বিসিবি। ১০ নভেম্বর কমিটির সদস্য সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত হয় তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য আজমালুল হোসেন কিউসি ও সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাসেম।
২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে একাধিক শুনানি শেষে কাল সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আগেই অভিযোগ স্বীকার করা মোহাম্মদ আশরাফুল ও কৌশল লোকুয়ারাচ্চি সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে জানা গেছে, তাঁদের দুজনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে লঘু শাস্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের কাছে। চূড়ান্ত রায় ও শাস্তি ঘোষণার আগে সেটি বিবেচনা করে দেখবেন ট্রাইব্যুনাল। একই আবেদন করতে পারবেন লু ভিনসেন্টও। প্রথম দফায় অভিযুক্ত ৯ জনের মধ্যে খুলনার হয়ে খেলা এই নিউজিল্যান্ডার না থাকলেও আকসু পরে তথ্য গোপন করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাঁকে। আশরাফুল ও লোকুয়ারাচ্চির মতো তিনিও অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের কাছে মোহাম্মদ আশরাফুল বিপিএলের ফিক্সিংয়ে শুধু নিজে জড়িত থাকার কথাই স্বীকার করেননি, তাঁর জবানবন্দি থেকে বেরিয়ে আসে আরও অনেকের নাম। বিপিএল ছাড়িয়ে সেটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ডালপালা ছড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও স্পট ফিক্সিং করেছেন স্বীকার করে আশরাফুল দাবি করেন, বাংলাদেশের সাবেক তিন ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ, মোহাম্মদ রফিক ও খালেদ মাসুদ তাঁকে ফিক্সিং জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অংশটুকু নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে কি না বা ভবিষ্যতে করা হবে কি না—এ ব্যাপারে আইসিসি বরাবরই কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে। তবে বিপিএল ফিক্সিং নিয়ে আকসুর তদন্ত চলেছে মূলত আশরাফুলের জবানবন্দির ভিত্তিতেই। কিন্তু বিচার শেষে বিস্ময়করভাবে দেখা গেল, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, তিন ক্রিকেটার মাহবুবুল আলম, মোশাররফ হোসেন ও ড্যারেন স্টিভেন্স, বোলিং কোচ মোহাম্মদ রফিক এবং ভারতীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গৌরব রাওয়াত দোষী নন! কালকের এই রায়ের পর মোশাররফ ও মাহবুবুলের ওপর বিসিবির অধীনে যেকোনো ধরনের ক্রিকেট খেলায় যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটিও উঠে গেছে তাৎক্ষণিকভাবে। অথচ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল চারটি; মাহবুবুল, মোশাররফ ও স্টিভেন্সের বিরুদ্ধে দুটি করে; মোহাম্মদ রফিকের বিরুদ্ধে তিনটি এবং রাওয়াতের বিরুদ্ধে পাঁচটি।
রায় প্রদানের সময় অভিযুক্তদের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন শুধু আশরাফুল ও স্টিভেন্স। রায়ের পর গুলশানের ট্রাইব্যুনাল কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকেরা আশরাফুলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি কোনো কথা না বলেই চলে যান। তবে প্রায় সব অভিযুক্তের আইনজীবীকেই আনন্দিত মনে হয়েছে। কেউ কেউ বিজয়চিহ্নও দেখিয়েছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল ও ড্যারেন স্টিভেন্সের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইনজীবী ইয়াসিন প্যাটেল উপস্থিত সাংবাদিকদের একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান। তাতে ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মোশাররফ-মাহবুবুলের আইনজীবী নূরুস সাদিক বলেন, ‘আমরা দেশের মর্যাদা রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ট্রাইব্যুনালের রায়ে আমি খুশি। আমার মক্কেলরা সিদ্ধান্ত জেনেছেন, তাঁরাও খুশি।’
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের আইনজীবী নওরোজ এম আর চৌধুরী বলেছেন, ‘বিচারে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস দোষী হয়নি, তবে ব্যক্তিগতভাবে একটা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন শিহাব চৌধুরী। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।
চারজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তবে এর মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রেই ট্রাইব্যুনালের কোনো ভূমিকা নেই। কারণ বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার কৌশল লোকুয়ারাচ্চি ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান লু ভিনসেন্ট নিজেরাই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করা বাকি সাতজনের মধ্যে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন শুধু ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরীর ছেলে ও ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিহাব জিশান চৌধুরী। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস-চিটাগং কিংস ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন তিনি।
রায় প্রদান শেষে ট্রাইব্যুনাল-প্রধান সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা ১০ জনের বিচার করেছি। এর মধ্যে তিনজন দোষ স্বীকার করেছেন। একজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই চারজনের শাস্তির ব্যাপারে আবার শুনানি হবে।’ ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তে বিস্ময়ের মূল কারণ, আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ (আকসু) দীর্ঘ তদন্তের পর সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদিসহই অভিযোগ এনেছিল নয়জনের বিরুদ্ধে। গত আগস্টে বিসিবি ও আইসিসির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সেটি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ না করা হলেও সেটি দ্রুতই সংবাদমাধ্যমে চলে আসে। অধিকতর তদন্তে বিপিএলে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের অধিনায়ক লু ভিনসেন্টের নামও যোগ হয় এই নয়জনের সঙ্গে।
অভিযুক্ত দশজনের ছয়জনকেই নির্দোষ বলে রায় দেওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে আকসুর তদন্ত। আইসিসির তাই বিস্মিত ও হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। রায় ঘোষণার পরপরই বিসিবি ও আইসিসির যৌথ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেটিরই প্রকাশ ঘটেছে, ‘আইসিসি ও বিসিবি সিদ্ধান্ত জেনেছে এবং তাতে একই সঙ্গে বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে।’ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। দুই সপ্তাহ পর পূর্ণাঙ্গ রায় দেওয়ার কথা।
আকসুর নীতিমালা অনুযায়ী ফিক্সিংয়ের বিচারকাজের জন্য গত ১৪ অক্টোবর সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রশিদকে প্রধান করে ১১ সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে বিসিবি। ১০ নভেম্বর কমিটির সদস্য সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত হয় তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য আজমালুল হোসেন কিউসি ও সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাসেম।
২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে একাধিক শুনানি শেষে কাল সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আগেই অভিযোগ স্বীকার করা মোহাম্মদ আশরাফুল ও কৌশল লোকুয়ারাচ্চি সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে জানা গেছে, তাঁদের দুজনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে লঘু শাস্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের কাছে। চূড়ান্ত রায় ও শাস্তি ঘোষণার আগে সেটি বিবেচনা করে দেখবেন ট্রাইব্যুনাল। একই আবেদন করতে পারবেন লু ভিনসেন্টও। প্রথম দফায় অভিযুক্ত ৯ জনের মধ্যে খুলনার হয়ে খেলা এই নিউজিল্যান্ডার না থাকলেও আকসু পরে তথ্য গোপন করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাঁকে। আশরাফুল ও লোকুয়ারাচ্চির মতো তিনিও অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের কাছে মোহাম্মদ আশরাফুল বিপিএলের ফিক্সিংয়ে শুধু নিজে জড়িত থাকার কথাই স্বীকার করেননি, তাঁর জবানবন্দি থেকে বেরিয়ে আসে আরও অনেকের নাম। বিপিএল ছাড়িয়ে সেটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ডালপালা ছড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও স্পট ফিক্সিং করেছেন স্বীকার করে আশরাফুল দাবি করেন, বাংলাদেশের সাবেক তিন ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ, মোহাম্মদ রফিক ও খালেদ মাসুদ তাঁকে ফিক্সিং জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অংশটুকু নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে কি না বা ভবিষ্যতে করা হবে কি না—এ ব্যাপারে আইসিসি বরাবরই কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে। তবে বিপিএল ফিক্সিং নিয়ে আকসুর তদন্ত চলেছে মূলত আশরাফুলের জবানবন্দির ভিত্তিতেই। কিন্তু বিচার শেষে বিস্ময়করভাবে দেখা গেল, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, তিন ক্রিকেটার মাহবুবুল আলম, মোশাররফ হোসেন ও ড্যারেন স্টিভেন্স, বোলিং কোচ মোহাম্মদ রফিক এবং ভারতীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গৌরব রাওয়াত দোষী নন! কালকের এই রায়ের পর মোশাররফ ও মাহবুবুলের ওপর বিসিবির অধীনে যেকোনো ধরনের ক্রিকেট খেলায় যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটিও উঠে গেছে তাৎক্ষণিকভাবে। অথচ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল চারটি; মাহবুবুল, মোশাররফ ও স্টিভেন্সের বিরুদ্ধে দুটি করে; মোহাম্মদ রফিকের বিরুদ্ধে তিনটি এবং রাওয়াতের বিরুদ্ধে পাঁচটি।
রায় প্রদানের সময় অভিযুক্তদের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন শুধু আশরাফুল ও স্টিভেন্স। রায়ের পর গুলশানের ট্রাইব্যুনাল কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকেরা আশরাফুলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি কোনো কথা না বলেই চলে যান। তবে প্রায় সব অভিযুক্তের আইনজীবীকেই আনন্দিত মনে হয়েছে। কেউ কেউ বিজয়চিহ্নও দেখিয়েছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল ও ড্যারেন স্টিভেন্সের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইনজীবী ইয়াসিন প্যাটেল উপস্থিত সাংবাদিকদের একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান। তাতে ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মোশাররফ-মাহবুবুলের আইনজীবী নূরুস সাদিক বলেন, ‘আমরা দেশের মর্যাদা রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ট্রাইব্যুনালের রায়ে আমি খুশি। আমার মক্কেলরা সিদ্ধান্ত জেনেছেন, তাঁরাও খুশি।’
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের আইনজীবী নওরোজ এম আর চৌধুরী বলেছেন, ‘বিচারে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস দোষী হয়নি, তবে ব্যক্তিগতভাবে একটা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন শিহাব চৌধুরী। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দশাই চলছে ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্লাবগুলোর। ২-০
গোলের ব্যবধানে হারের মুখ দেখেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি
ও আর্সেনাল। গতকাল জয়বঞ্চিত হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দল চেলসিও। তবে
অন্যদের চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে ব্লুরা। তুরস্কের ক্লাব
গ্যালাতাসারাইয়ের মাঠে গিয়ে ১-১ গোলে ড্র করেছে চেলসি। এখন কোয়ার্টার
ফাইনালের টিকিট পাওয়ার জন্য নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগের খেলায় জয়ের কোনো
বিকল্প নেই হোসে মরিনহোর শিষ্যদের।
২০১২ সালে চেলসি ছাড়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো পুরোনো ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা। তিনিই হয়ে উঠতে পারতেন চেলসির প্রধান হুমকি। কিন্তু গ্যারি কাহিল ও জন টেরির কড়া মার্কিংয়ে খুব বেশি জ্বলে উঠতে পারেননি আইভরি কোস্টের এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে এগিয়ে গিয়েছিল চেলসিই। নয় মিনিটে সিজার আপিলেকুয়েতার পাস থেকে বল পেয়ে সেটা জালে জড়াতে কোনোই ভুল করেননি ফার্নান্দো তোরেস। প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময় খেলায় নিয়ন্ত্রণও ধরে রেখেছিল চেলসি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে খেলায় ফেরে গ্যালাতাসারাই। ৬৪ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি করেন আউরেলিন চেজোউ।
২০১২ সালে চেলসি ছাড়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো পুরোনো ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা। তিনিই হয়ে উঠতে পারতেন চেলসির প্রধান হুমকি। কিন্তু গ্যারি কাহিল ও জন টেরির কড়া মার্কিংয়ে খুব বেশি জ্বলে উঠতে পারেননি আইভরি কোস্টের এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে এগিয়ে গিয়েছিল চেলসিই। নয় মিনিটে সিজার আপিলেকুয়েতার পাস থেকে বল পেয়ে সেটা জালে জড়াতে কোনোই ভুল করেননি ফার্নান্দো তোরেস। প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময় খেলায় নিয়ন্ত্রণও ধরে রেখেছিল চেলসি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে খেলায় ফেরে গ্যালাতাসারাই। ৬৪ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি করেন আউরেলিন চেজোউ।
তবে ড্র করায় অসন্তুষ্ট নয় কোনো দলই। গ্যালাতাসারাইয়ের কোচ রবার্তো মানচিনি ম্যাচশেষে বলেছেন, ‘প্রথমার্ধে হয়তো আমরা কিছুটা ভয় নিয়ে খেলেছি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খুবই ভালো খেলেছি। ১-১ ভালো ফলাফল। আমাদের হাতে আরেকটা ম্যাচ আছে। আমার খেলোয়াড়েরা দেখেছে যে, তারা কী করতে পারে। আর এখন আমরা জানি যে, শেষ ষোলোর বাধা পেরোনোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’
একই রকম অভিমত চেলসি কোচ মরিনহোরও। গোলশূন্য ড্র করার চেয়ে ১-১ গোলের
ড্রটাকেই এখন মন্দের ভালো হিসেবে ধরে নিচ্ছেন এই পর্তুগিজ কোচ, ‘তুরস্কের
ফুটবল এমনই। এটা খুবই আবেগনির্ভর। গ্যালাতাসারাই খুবই বড় ক্লাব। এখানে অনেক
বড় বড় খেলোয়াড় আছে। কাজেই আমাদের কাজটা সহজ ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে তারা
আমাদের কিছুটা চাপে রেখেছিল। কিন্তু গোলশূন্য ড্রয়ের চেয়ে ১-১ ফলাফলটা অনেক
ভালো।’— রয়টার্স
বিতীয় তফসিলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে লাকসাম মনোহরগঞ্জ ও দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহন চলবে
বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ৩টি উপজেলায় ২টি পৌরসভাসহ ৩৩টি ইউনিয়নের ৫ লাখ ৯৪ হাজার
২৫৯ জন নারী-পুরুষ ২শ’ ১৫টি কেন্দ্রে ভোট প্রয়োগ করবেন। ২’শ ১৫টি
কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি অতি ঝূকিপূর্ণ ও ৭৬টি ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা
হয়েছে।
প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত ব্যালট পেপার ও ভোট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ গ্রাম পুরুষ সার্বক্ষনিক মোতায়েনন থাকবে।
এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ৩টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতিটি ইউনিয়নে ২টি মোবাইল টীম এবং উপজেলা পর্যায়ে ১ প্লাটুন পুলিশ সার্বক্ষণিক মোতায়ন থাকবে।
কুমিল্লা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়- ৩টি উপজেলার মধ্যে লাকসামে চেয়ারম্যান পদে আবদুর রহমান বাদল (দোয়াত-কলম), অ্যাডভোকেট ইউনুছ ভূঁইয়া (কাপ-পিরিচ), প্রফেসর ড. গোলাম মোস্তফা (আনারস); ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী (উড়োজাহাজ), মহব্বত আলী (তালা), শহিদুল ইসলাম (টিয়া পাখি); মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আফরোজা আক্তার বেবী (হাঁস) ও রাশিদা বেগম (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।
মনোহরগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াছ পাটোয়ারী (দোয়াত-কলম), জাকির হোসেন (কাপ-পিরিচ), শফিকুর রহমান (টেলিফোন), আক্তার হাসান মাইনু (আনারস); ভাইস চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভুলু (চশমা), হাজী আজীম উদ্দিন (উড়োজাহাজ), মিজানুর রহমান (বৈদ্যুতিক বাল্ব); এসএম শাহাদাত হোসেন (তালা); মহিলা ভাইস পদে আফরোজা কুসুম (ফুটবল) ও নুরজাহান বেগম (কলস) প্রতীক পেয়ে ভোটের মাঠে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেমেছেন। তবে মনোহরগঞ্জে প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শফিকুর রহমান (টেলিফোন) ইতোমধ্যে বিএনপি’র একক প্রার্থী ইলিয়াছ পাটোয়ারীকে সমর্থন জানিয়ে তার পে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান পদে এএফএম তারেক (দোয়াত-কলম), একেএম শফিকুল আলম কামাল (আনারস), রহুল আমিন (টেলিফোন), জালাল উদ্দিন ভূঁইয়া (কাপ-পিরিচ), ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল চৌধুরী (চশমা), আবুল হোসেন লিপু (মাইক), আবদুল হক খোকন (তালা), সাইফুল ইসলাম সহিদ (টিউবওয়েল), এসএম ইমরান হাসান (বই), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট নাজমা বেগম (প্রজাপতি), মহিমা আক্তার (কলস), সুফিয়া বেগম (হাঁস) ও নাজমা বেগম (ফুটবল) রয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রধান নির্বাচন অফিসার রাসেদুল ইসলাম জানান- কুমিল্লার দেবিদ্বার, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এ তিন উপজেলার ২ শ’১৫ টি কেন্দ্রর মধ্যে ৫০ টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৬ টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ উপজেলা তিনটির মধ্যে লাকসাম উপজেলার ৬১ কেন্দ্রর মধ্যে ১৫ টি ঝুকিপূর্ণ এবং ২৯ টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫৬ টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯ টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১১ টি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলার ৯৮ টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬ টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৭ টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। অন্যদিকে এ ৩টি উপজেলায় ভোট গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত ব্যালট পেপার ও ভোট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।
অপরদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য ১ জন এস আই, ১ জন এ এস আই, ৪ জন কনষ্টেবল, ১ জন প্লাটুন কমান্ডার ১ জন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার, ৬ জন পুরুষ আনসার, ৪ জন মহিলা আনসার এবং ১ জন গ্রাম পুলিশ সহ ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ১ জন এস আই, ১ এ এস আই, ১ জন কনষ্টেবল, ১ জন প্লাটুন কমান্ডার, ১ জন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার, ৬ জন পুরুষ আনসার, ৪ জন মহিলা আনসার এবং ১ জন গ্রাম পুলিশ সহ ১৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্র ১ জন এস আই, ১ জন এ এস আই, ১ জন কনষ্টেবল, ১ জন প্লাটুন কমান্ডার, ১ জন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার, ৫ জন পুরুষ আনসার, ৪ জন মহিলা আনসার এবং ১ জন গ্রাম পুলিশ সহ ১৫ জন দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় ৩ টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতিটি ইউনিয়নে ২ টি মোবাইল টীম এবং উপজেলা পর্যায়ে ১ প্লাটুন পুলিশ সার্বক্ষণিক মোতায়ন থাকবে। অধিক নিরাপত্তা
র জন্য উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণস্থানে সেনা, বিজিবিও র্যাব
সদস্যরাও মোতায়ন থাকবে বলে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা কামাল
উদ্দিন আহাম্মেদ জানিয়েছেন।প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত ব্যালট পেপার ও ভোট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ গ্রাম পুরুষ সার্বক্ষনিক মোতায়েনন থাকবে।
এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ৩টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতিটি ইউনিয়নে ২টি মোবাইল টীম এবং উপজেলা পর্যায়ে ১ প্লাটুন পুলিশ সার্বক্ষণিক মোতায়ন থাকবে।
কুমিল্লা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়- ৩টি উপজেলার মধ্যে লাকসামে চেয়ারম্যান পদে আবদুর রহমান বাদল (দোয়াত-কলম), অ্যাডভোকেট ইউনুছ ভূঁইয়া (কাপ-পিরিচ), প্রফেসর ড. গোলাম মোস্তফা (আনারস); ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী (উড়োজাহাজ), মহব্বত আলী (তালা), শহিদুল ইসলাম (টিয়া পাখি); মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আফরোজা আক্তার বেবী (হাঁস) ও রাশিদা বেগম (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।
মনোহরগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াছ পাটোয়ারী (দোয়াত-কলম), জাকির হোসেন (কাপ-পিরিচ), শফিকুর রহমান (টেলিফোন), আক্তার হাসান মাইনু (আনারস); ভাইস চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভুলু (চশমা), হাজী আজীম উদ্দিন (উড়োজাহাজ), মিজানুর রহমান (বৈদ্যুতিক বাল্ব); এসএম শাহাদাত হোসেন (তালা); মহিলা ভাইস পদে আফরোজা কুসুম (ফুটবল) ও নুরজাহান বেগম (কলস) প্রতীক পেয়ে ভোটের মাঠে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেমেছেন। তবে মনোহরগঞ্জে প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শফিকুর রহমান (টেলিফোন) ইতোমধ্যে বিএনপি’র একক প্রার্থী ইলিয়াছ পাটোয়ারীকে সমর্থন জানিয়ে তার পে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান পদে এএফএম তারেক (দোয়াত-কলম), একেএম শফিকুল আলম কামাল (আনারস), রহুল আমিন (টেলিফোন), জালাল উদ্দিন ভূঁইয়া (কাপ-পিরিচ), ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল চৌধুরী (চশমা), আবুল হোসেন লিপু (মাইক), আবদুল হক খোকন (তালা), সাইফুল ইসলাম সহিদ (টিউবওয়েল), এসএম ইমরান হাসান (বই), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট নাজমা বেগম (প্রজাপতি), মহিমা আক্তার (কলস), সুফিয়া বেগম (হাঁস) ও নাজমা বেগম (ফুটবল) রয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রধান নির্বাচন অফিসার রাসেদুল ইসলাম জানান- কুমিল্লার দেবিদ্বার, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এ তিন উপজেলার ২ শ’১৫ টি কেন্দ্রর মধ্যে ৫০ টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৬ টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ উপজেলা তিনটির মধ্যে লাকসাম উপজেলার ৬১ কেন্দ্রর মধ্যে ১৫ টি ঝুকিপূর্ণ এবং ২৯ টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫৬ টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯ টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১১ টি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলার ৯৮ টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬ টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৭ টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। অন্যদিকে এ ৩টি উপজেলায় ভোট গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত ব্যালট পেপার ও ভোট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।
অপরদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য ১ জন এস আই, ১ জন এ এস আই, ৪ জন কনষ্টেবল, ১ জন প্লাটুন কমান্ডার ১ জন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার, ৬ জন পুরুষ আনসার, ৪ জন মহিলা আনসার এবং ১ জন গ্রাম পুলিশ সহ ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ১ জন এস আই, ১ এ এস আই, ১ জন কনষ্টেবল, ১ জন প্লাটুন কমান্ডার, ১ জন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার, ৬ জন পুরুষ আনসার, ৪ জন মহিলা আনসার এবং ১ জন গ্রাম পুলিশ সহ ১৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্র ১ জন এস আই, ১ জন এ এস আই, ১ জন কনষ্টেবল, ১ জন প্লাটুন কমান্ডার, ১ জন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার, ৫ জন পুরুষ আনসার, ৪ জন মহিলা আনসার এবং ১ জন গ্রাম পুলিশ সহ ১৫ জন দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় ৩ টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতিটি ইউনিয়নে ২ টি মোবাইল টীম এবং উপজেলা পর্যায়ে ১ প্লাটুন পুলিশ সার্বক্ষণিক মোতায়ন থাকবে। অধিক নিরাপত্তা
নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস
চেয়ারম্যান পদে এস এম মহি উদ্দীন তালা প্রতীক পাওয়ার পর মতবিনিময় সভার
আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার নাঙ্গলকোট নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আবদুস সাত্তার। উপজেলা
উত্তরের আমীর অ্যাডভোকেট এ জে এম ছালেহ উদ্দীন খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায়
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের
সেক্রেটারী খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক সহিদ উল্লাহ
মিয়াজী, নাঙ্গলকোট উপজেলা উত্তরের আমীর আবদুল করিম, কুমিল্লা মহানগর
শিবিরের সাবেক সভাপতি নাছির আহম্মেদ মোল্লা ও ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা জাফর
আহম্মেদ মজুমদার। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা
অবদুস সালাম মজুমদা, জেলা শিবির নেতা আনোয়ার হোসেন, নাঙ্গলকোট উপজেলা সদর
শিবিরের সভাপতি ফয়েজুর রহমান, উত্তর সভাপতি মহসিন কবির, কুমিল্লা মহানগর
জামায়াত নেতা কাজী নজির আহম্মদ, জামায়াত নেতা মাষ্টার সাইফুল্লা, মাওলানা
নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুল মালেক, মাওলানা ইউসুফ আলী প্রমূখ। প্রধান
অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর আবদুস সাত্তার বলেন ভোটের জোয়ারে ভেসে
যাবে মিথ্যাচার, লুটপাট কারি ভারতীয় দালালরা। পদ্মা সেতুর দুর্নিতিবাজ
মন্ত্রী আবুল হোসেনকে শেখ হাসিনা দেশ প্রেমিক উপাদি দিয়ে ছিলেন। তাই জনগন
শেখ হাসিনাকে দেশ প্রেমিকের মর্মার্থ বুঝাতে তার প্রর্থীদের সমচিত জবাব
দিচ্ছে।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শহিদুল্লাহ খান সবুজ (২৬) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার
সন্ধ্যায় মনোহরগঞ্জ-হাসনাবাদ সড়কের উপজেলার বাইজগাও এলাকায় দুটি
মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শহীদুল্লাহ খান সবুজসহ চার জন আহত হন। পরে
কুমিল্লা মুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদুল্লাহ খান সবুজের মৃত্যু
হয়। শহীদুল্লাহ খান সবুজ উপজেলার ৬নং মৈশাচুয়া ইউনিয়নের মৈশাচুয়া গ্রামের মৃত সুলতান খানের ছেলে।আহতরা হলেন- উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান, ছাত্রলীগ নেতা নুরে আলম ও অপর মোটরসাইকেল চালক আরিফুর রহমান। স্থানীয়
সূত্র জানায়, তারা মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার সময় মনোহরগঞ্জ-হাসনাবাদ সড়কের
বাইজগাও এলাকায় বিপরীত থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি
সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ অপর মোটরসাইকেল চালক আরিফুর রহমান
গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রথমে লাকসাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুমিল্লা
জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
ছাত্রলীগ সভাপতি শহিদুল্লাহ খান সবুজের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, সবুজ মারা গেছে বিষয়টি উপজেলার
দলীয় নেতা-কর্মীরা আমাকে জানিয়েছে।
Md. Rabiul Hossain :
গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লা মহানগরীর প্রতিভা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বার্ষিক শিা সফর ঢাকা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়।
শিা সফরের কর্মসূচীর শুরুতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় কুমিল্লা ঈদগাহ্ মাঠ থেকে বাসের মাধ্যমে ঢাকা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে সকাল সাড়ে ১১ টার সময় গন্তব্য স্থলে পৌছায়। শিার্থীরা উৎসাহ ও উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ চিড়িয়াখানাটি ঘুড়ে বেড়ায়। দুপুর দেড় টার সময় দুপুরের খাবার শেষ করে বোটানিক্যাল গার্ডেনে যায়। এসময় র্যাফেল ড্র, রানীর কপালে টিপ পড়ানো ও বালিশ খেলার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি ইভেন্টে বিজয়ীদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরষ্কার দেওয়া হয়।
শিা সফরের কর্মসূচীর শুরুতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় কুমিল্লা ঈদগাহ্ মাঠ থেকে বাসের মাধ্যমে ঢাকা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে সকাল সাড়ে ১১ টার সময় গন্তব্য স্থলে পৌছায়। শিার্থীরা উৎসাহ ও উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ চিড়িয়াখানাটি ঘুড়ে বেড়ায়। দুপুর দেড় টার সময় দুপুরের খাবার শেষ করে বোটানিক্যাল গার্ডেনে যায়। এসময় র্যাফেল ড্র, রানীর কপালে টিপ পড়ানো ও বালিশ খেলার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি ইভেন্টে বিজয়ীদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরষ্কার দেওয়া হয়।
শিা সফরে শিার্থীদের সাথে অংশগ্রহণ করেন অত্র স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এড. বিল্লাল হোসেন ভূইয়া, অত্র স্কুলের প্রধান শিক নূরমিন আক্তার, সহকারি শিক ফরহাদ আহমেদ, আকলিমা আক্তার, আফরোজা আক্তার, মাহমুদা আক্তার, মনিরা বেগম, এরিন আক্তার, রিমা আক্তার রেশমা, নিপা আক্তার প্রমুখ।
কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম চাই।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সহ-সভাপতি’র এলাকায় কোনো
আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নেই, এটা দুঃখজনক।
তাই অবিলম্বে এলাকার তরুণ সমাজের কথা বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লার লালমাই
পাহাড় এলাকায় একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি করেন বরুড়া থেকে নির্বাচিত
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, আইসিসি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভবিষৎ প্রেসিডেন্ট আ হ ম মুস্তফা কামাল এর এলাকাও কুমিল্লা। অথচ এই এলাকাতে নেই কোনো স্টেডিয়াম। একথা ভাবাই দুঃখজনক। এ এলাকার ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলায় এগিয়ে যেতে পারছে না। দেশ খেলাধুলায় যত এগিয়ে আছে, কুমিল্লার ছেলে-মেয়েরা সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
তিনি বলেন, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে যে পরিমাণ জায়গা আছে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম করা সহজ ব্যাপার।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ‘ইরি’ মৌসুমে আমার এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। বিদ্যুৎ এর যে অবস্থা তাতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ এর ঘাটতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তাজরীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানি আগামী ৬ মার্চ ধার্য করেছে আদালত। ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদের আদালতে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় এ আবেদন করা হয়। তার আইনজীবী এটিএম গোলম গাউস জামিন চেয়ে আবেদন করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রবিবার দেলোয়ার হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। একই দিনে তার আইনজীবী এটিএম গোলম গাউস ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম তাজুল ইসলামের আদালতে জামিন চান। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক একেএম মহসিনুজ্জামান খান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে তাজরীনের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন কারাগারে রয়েছেন এবং তাজরীন ফ্যাশনের চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার মিতা জামিনে আছেন।
পলাতক রয়েছেন- প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহীদুজ্জামান, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জু ও ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক। চার্জশিটে বাকি যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিন, স্টোর ইনচার্জ আল-আমিন এবং লোডার শামীম মিয়া। এর মধ্যে আনিসুর রহমান আটক রয়েছেন। বাকি ৬ জন জামিনে রয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনের ওই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১২ জন নিহত এবং দুইশতাধিক শ্রমিক আহত ও দগ্ধ হন। পরদিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নাশকতার পাশাপাশি অবহেলাজনিত মৃত্যুর দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ ও ৩০৪(ক) ধারা অনুযায়ী ‘অপরাধজনক নরহত্যা’ ও ‘অবহেলার কারণে মৃত্যুর’ অভিযোগ আনা হয়, যার প্রথমটিতে তদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দ্বিতীয় ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর জেল হতে পারে।
প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে ধরা পড়ার ১৪ ঘণ্টা পরই কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত
হলেন জেএমবির নেতা হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব হাসান (৩৫)। তবে সংশ্লিষ্ট মহল
এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গত রোববার ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রিজন ভ্যানে গুলি-বোমা হামলা চালিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা ও দুজনকে আহত করে হাফেজ মাহমুদসহ জেএমবির তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তাঁদের সহযোগীরা। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার সখীপুর-গোড়াই সড়কের তক্তারচালায় একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে হাফেজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর সোমবার ভোর চারটার দিকে সখীপুর-গোড়াই সড়কের মির্জাপুর থানা অংশের বেলতৈল সিরামিকস এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন বলে পুলিশ দাবি করে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের একটি দল গভীর রাতে হাফেজকে নিয়ে মির্জাপুরের বেলতৈল সিরামিক এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায়। ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে সেখানে পুলিশের ওপর একদল অস্ত্রধারী হামলা চালালে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের সময় হাফেজ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তাঁর লাশ মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসির দাবি, এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এঁরা হলেন সখীপুর থানার কনস্টেবল মোজাম্মেল হক, গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল আসাদ মিয়া ও গোলাম মওলা। তাঁদের টাঙ্গাইলের পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাফেজ মাহমুদকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর কাছে নতুন কোনো তথ্য পাওয়ার ছিল না বলেও কর্মকর্তারা দাবি করেন। এ ঘটনা অন্য জঙ্গিদের ক্ষেত্রে উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে তাঁরা মনে করেন।
কথিত বন্দুকযুদ্ধে কোনো জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনা দেশে এটাই প্রথম।
কুমুদিনী হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, সোমবার ভোর পাঁচটার কিছু পরে হাফেজ মাহমুদকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর টাঙ্গাইলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ মাহমুদের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মর্গে লাশ নিতে আসেন বাবা: গতকাল বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ছেলের লাশ নিতে আসেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবদুস সোবহান। তিনি জানান, রোববার দুপুরে টেলিভিশনে খবর দেখে তাঁরা জানতে পারেন, হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন তাঁর সহযোগীরা। এ খবর শোনার পর থেকেই তাঁরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বিকেলে ধরা পড়ার খবর পান তাঁরা। এর পর থেকে হাফেজ মাহমুদের মা ‘ছেলেকে মেরে ফেলা হবে’—এ আশঙ্কায় কাঁদতে থাকেন। পরে গতকাল সকালে সত্যি সত্যিই মৃত্যুর খবর পান। দুপুরের দিকে জামাতাকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে জামালপুরের মেলান্দহ থেকে টাঙ্গাইলে আসেন তিনি। সন্ধ্যায় তাঁর লাশ নিয়ে পুলিশ পাহারায় টাঙ্গাইল থেকে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন সোবহান। এ সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ছেলে মরে গেছে, এখানেই সব শেষ।’
সোবহানের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে হাফেজ দ্বিতীয়। আট বছর আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেশ কয়েকবার ঢাকা, কাশিমপুর ও ময়মনসিংহ কারাগারে গিয়ে ছেলের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানান। সর্বশেষ ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা হয়।
সোবহান জানান, রাজধানীর বাসাবোতে একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সময়ই জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হন হাফেজ মাহমুদ। পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন ২০০৬ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর।
কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে শিস দেওয়ার ভঙ্গিতে সংবাদ সম্মেলনকক্ষে ঢুকলেন
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের দেখে হাই-হ্যালো, হাসি বিনিময়,
যেন কত দিনের চেনা! প্রথম প্রশ্নটা শুনে কাঁধ ঝাঁকিয়ে এমনভাবে হাসলেন, যেন
তৈরিই ছিলেন, ‘এক মাস ধরে বাংলাদেশে আছে শ্রীলঙ্কা, এটা কতটা সুবিধা?’
একাই এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। সঙ্গে না দলের ম্যানেজার, না এসিসির কেউ।
গেলেনও একাই, হেলতে-দুলতে। মিনিট দশেক পর হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে ম্যানেজার
মাইকেল ডি জয়সার জিজ্ঞাসা, ‘প্রেস কনফারেন্স শেষ?’
গত এক মাসের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ যে এখন শ্রীলঙ্কাকে ঘরের মাটির স্বস্তিই এনে দিচ্ছে, সেটা বলে দিচ্ছে লঙ্কানদের আয়েশি চালচলনই। উল্টো চিত্র পাকিস্তান শিবিরে। মিসবাহ-হাফিজরা সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। পাকিস্তান দল বাইরে বেরোলে হোটেলের লবিতে দুই পাশে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে পুলিশ। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা সিঁড়িতে থাকলে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে ও নামতে দেওয়া হয় না কাউকে। ম্যাচের আগের দিন কোনো ক্রিকেটার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হবেন, এটাই অলিখিত নিয়ম। কিন্তু পাকিস্তানের কাউকে দেওয়া হবে না জানিয়ে দলের ম্যানেজার ও সাবেক পেসার জাকির খান পাথুরে মুখে বললেন, ‘আমরা এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি, চাই না ছেলেরা বেশি কথা বলুক।’
এখানে বিপরীতমুখী হলেও গত কিছুদিনে কিন্তু বারবার এক নিঃশ্বাসে নিতে হয়েছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার নাম। বিশ্ব ক্রিকেট কাঠামোর খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার তিন বোর্ডের প্রস্তাবের বিরোধিতায় দিন কয়েক আগ পর্যন্ত এককাট্টা ছিল এই দুই দেশের বোর্ড। মাঠের ক্রিকেটেও দুদল পরস্পরের ‘প্রিয় শত্রু’। ভারত-শ্রীলঙ্কা লড়াইয়ের (১৪৩) পর ওয়ানডে ক্রিকেট সবচেয়ে বেশি দেখেছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা লড়াই। আজ এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দুদলের ১৩৮তম লড়াই! গত এশিয়া কাপের পরই দুদল ওয়ানডেতে পরস্পর মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার!
এই গত ডিসেম্বরেই আরব আমিরাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলল দুদল। তিনটি ম্যাচ গড়িয়েছে শেষ ওভারে, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতেছে ৩-২-এ। ওই সিরিজ যেমন বলছে, শক্তির বিচারে আসলেই দুদলকে আলাদা করা কঠিন। বোলিং শক্তিতে যথারীতি এগিয়ে পাকিস্তান। জুনাইদ খানের বরাবরই পছন্দ শ্রীলঙ্কা, সর্বশেষ সিরিজেও নিয়েছেন ১৩ উইকেট। সঙ্গে গুল-আজমল-আফ্রিদি-হাফিজদের নিয়ে পাকিস্তান বোলিং আক্রমণ সব সময়ের মতোই বৈচিত্র্যময়। দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার বিলাওয়াল ভাট্টি ও আনোয়ার আলীর একজনের জায়গা হবে একাদশে। শ্রীলঙ্কা আবার পরিষ্কার এগিয়ে ব্যাটিংয়ে। চোটের কারণে দিলশান না থাকলেও বিশ্রাম কাটিয়ে ফিরছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। ওপেনার হিসেবে জয়াবর্ধনের রেকর্ড দারুণ, কুশল পেরেরার সঙ্গে আজ ওপেন করবেন তিনিই। এরপর আছে সাঙ্গাকারার ভরসা, পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে আছেন চান্ডিমাল-ম্যাথুসরা। তবে এই শক্তির বিচারই শেষ কথা নয়। গত সিরিজে তিন সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ হাফিজ যেমন ব্যাট হাতে গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য, তেমনি মুহূর্তে রং পাল্টে দিতে পারেন লাসিথ মালিঙ্গা।
গত এশিয়া কাপ শিরোপা জয়ের পথে শ্রীলঙ্কাকে অনায়াসে হারিয়েছিল পাকিস্তান। সেই স্মৃতির সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গী সর্বশেষ সিরিজ জয়ের তরতাজা আত্মবিশ্বাস। তবে শ্রীলঙ্কাকে পাশাপাশি রাখার জন্য গত এক মাস তো আছেই। ঘাটতি যেটুকু ছিল, সেটাও পুষে গেছে গতকাল। ভারত-পাকিস্তান এখনো ফতুল্লার ছায়াও মাড়াতে পারেনি, সেখানে শ্রীলঙ্কা কাল অনুশীলন করেছে ফতুল্লাতেই!
গত এক মাসের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ যে এখন শ্রীলঙ্কাকে ঘরের মাটির স্বস্তিই এনে দিচ্ছে, সেটা বলে দিচ্ছে লঙ্কানদের আয়েশি চালচলনই। উল্টো চিত্র পাকিস্তান শিবিরে। মিসবাহ-হাফিজরা সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। পাকিস্তান দল বাইরে বেরোলে হোটেলের লবিতে দুই পাশে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে পুলিশ। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা সিঁড়িতে থাকলে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে ও নামতে দেওয়া হয় না কাউকে। ম্যাচের আগের দিন কোনো ক্রিকেটার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হবেন, এটাই অলিখিত নিয়ম। কিন্তু পাকিস্তানের কাউকে দেওয়া হবে না জানিয়ে দলের ম্যানেজার ও সাবেক পেসার জাকির খান পাথুরে মুখে বললেন, ‘আমরা এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি, চাই না ছেলেরা বেশি কথা বলুক।’
এখানে বিপরীতমুখী হলেও গত কিছুদিনে কিন্তু বারবার এক নিঃশ্বাসে নিতে হয়েছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার নাম। বিশ্ব ক্রিকেট কাঠামোর খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার তিন বোর্ডের প্রস্তাবের বিরোধিতায় দিন কয়েক আগ পর্যন্ত এককাট্টা ছিল এই দুই দেশের বোর্ড। মাঠের ক্রিকেটেও দুদল পরস্পরের ‘প্রিয় শত্রু’। ভারত-শ্রীলঙ্কা লড়াইয়ের (১৪৩) পর ওয়ানডে ক্রিকেট সবচেয়ে বেশি দেখেছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা লড়াই। আজ এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দুদলের ১৩৮তম লড়াই! গত এশিয়া কাপের পরই দুদল ওয়ানডেতে পরস্পর মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার!
এই গত ডিসেম্বরেই আরব আমিরাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলল দুদল। তিনটি ম্যাচ গড়িয়েছে শেষ ওভারে, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতেছে ৩-২-এ। ওই সিরিজ যেমন বলছে, শক্তির বিচারে আসলেই দুদলকে আলাদা করা কঠিন। বোলিং শক্তিতে যথারীতি এগিয়ে পাকিস্তান। জুনাইদ খানের বরাবরই পছন্দ শ্রীলঙ্কা, সর্বশেষ সিরিজেও নিয়েছেন ১৩ উইকেট। সঙ্গে গুল-আজমল-আফ্রিদি-হাফিজদের নিয়ে পাকিস্তান বোলিং আক্রমণ সব সময়ের মতোই বৈচিত্র্যময়। দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার বিলাওয়াল ভাট্টি ও আনোয়ার আলীর একজনের জায়গা হবে একাদশে। শ্রীলঙ্কা আবার পরিষ্কার এগিয়ে ব্যাটিংয়ে। চোটের কারণে দিলশান না থাকলেও বিশ্রাম কাটিয়ে ফিরছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। ওপেনার হিসেবে জয়াবর্ধনের রেকর্ড দারুণ, কুশল পেরেরার সঙ্গে আজ ওপেন করবেন তিনিই। এরপর আছে সাঙ্গাকারার ভরসা, পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে আছেন চান্ডিমাল-ম্যাথুসরা। তবে এই শক্তির বিচারই শেষ কথা নয়। গত সিরিজে তিন সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ হাফিজ যেমন ব্যাট হাতে গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য, তেমনি মুহূর্তে রং পাল্টে দিতে পারেন লাসিথ মালিঙ্গা।
গত এশিয়া কাপ শিরোপা জয়ের পথে শ্রীলঙ্কাকে অনায়াসে হারিয়েছিল পাকিস্তান। সেই স্মৃতির সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গী সর্বশেষ সিরিজ জয়ের তরতাজা আত্মবিশ্বাস। তবে শ্রীলঙ্কাকে পাশাপাশি রাখার জন্য গত এক মাস তো আছেই। ঘাটতি যেটুকু ছিল, সেটাও পুষে গেছে গতকাল। ভারত-পাকিস্তান এখনো ফতুল্লার ছায়াও মাড়াতে পারেনি, সেখানে শ্রীলঙ্কা কাল অনুশীলন করেছে ফতুল্লাতেই!
সব মিলিয়ে হিসাব-নিকাশ আর কাটাছেঁড়ায় দুদলই সমান্তরালে। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী দিনে আগুনে লড়াই দেখার প্রস্তুতি তাই নিয়েই রাখা যায়!
ওয়ানডেতে মুখোমুখি
ম্যাচ পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা টাই/পরি.
মোট ১৩৭ ৮০ ৫২ ১/৪
এশিয়া কাপে ১২ ৪ ৮ ০/০
পাঁচ অধিনায়কের মিছিলে যেমন সবার আগে, তেমনি সবার আগেই ট্রফিমঞ্চে গিয়ে
দাঁড়ালেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু লাল কাপড়টা সরিয়ে ট্রফি উন্মোচনের পর
স্বাগতিক দলের অধিনায়ক একটু পেছনে। সবার আগে ট্রফিটায় হাত রাখলেন গতবারের
চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। একে একে মুশফিকুর রহিম, ভারত
অধিনায়ক বিরাট কোহলি, শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও আফগানিস্তানের
মোহাম্মদ নবী। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ট্রফিতে স্পর্শ আগে লাগল না পরে, সেটি
গুরুত্বহীন। টুর্নামেন্ট শেষে হাতে ওঠাটাই আসল। বাংলাদেশ অধিনায়ক সেই আশা ও
আকাঙ্ক্ষায়ই হয়তো রইলেন।
দুই বছর আগে ট্রফিটা মুশফিকুর রহিমের হাতে শেষ আশ্রয় চেয়েও পায়নি। ‘ফটোফিনিশে’ পিছিয়ে পড়ায় সেটি উঠে যায় মিসবাহ-উল-হকের হাতে। এত কাছে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার যন্ত্রণা দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ফোটাতে পারে সাফল্যেরই ফুল। রানার্সআপের পর যেমন চ্যাম্পিয়নের আসনটাই থাকে অপেক্ষায়। যাত্রা শুরু হলে যেমন থাকে শুধু সামনে এগোনোর প্রেরণা। সেই চেনা মাঠ, চেনা পরিবেশ, চেনা দর্শক। আবারও বাংলাদেশের মাটিতে এশিয়া কাপ। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে আজ যার শুরু।
দুই বছর আগে ট্রফিটা মুশফিকুর রহিমের হাতে শেষ আশ্রয় চেয়েও পায়নি। ‘ফটোফিনিশে’ পিছিয়ে পড়ায় সেটি উঠে যায় মিসবাহ-উল-হকের হাতে। এত কাছে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার যন্ত্রণা দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ফোটাতে পারে সাফল্যেরই ফুল। রানার্সআপের পর যেমন চ্যাম্পিয়নের আসনটাই থাকে অপেক্ষায়। যাত্রা শুরু হলে যেমন থাকে শুধু সামনে এগোনোর প্রেরণা। সেই চেনা মাঠ, চেনা পরিবেশ, চেনা দর্শক। আবারও বাংলাদেশের মাটিতে এশিয়া কাপ। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে আজ যার শুরু।
![]() |
| উন্মোচিত হলো এশিয়া কাপের ট্রফি। তাতে হাত ছোঁয়ালেন পাঁচ অধিনায়ক। টুর্নামেন্টের শেষটায় একজনের হাতেই উঠবে এশীয় ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের এই স্মারক। কাল রাজধানীর এক হোটেলে । |
মাস তিনেক আগেও ভাবা যায়নি বাংলাদেশ এই দিনটাকে পাবে। জনপদে তখন আগুন, রক্ত, বারুদ আর ধ্বংসের নাচন। বাতাসে উড়ছিল সংশয়ের কালো মেঘ। কিন্তু এশিয়া কাপ ছেড়ে গেল না তার প্রিয় অঙ্গন। আবারও আয়োজক বাংলাদেশ। ৩০ বছর বয়সী এশিয়া কাপে চতুর্থবারের মতো। বাংলাদেশ তো খুশিই, এশিয়া কাপের মালিক এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) আনন্দও কম নয়। সৈয়দ আশরাফুল হকের শরীরী ভাষাতেই যার প্রকাশ। পরশু সাংবাদিক সমাবেশে এসিসির প্রধান নির্বাহী বলেও ফেললেন, ‘বলেছিলাম না, এশিয়া কাপ বাংলাদেশেই হবে?’
ওই প্রশ্নটা এখন মৃত। নতুন প্রশ্ন, কারা জিতবে ১১ দিন আর ১১ ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট? বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক আত্মপ্রত্যয়ী, ধরে রাখবেন শিরোপা। নতুন অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাঁধে চেপে ভারত এসেছে তীব্র তৃষায়। মাস খানেক এই দেশের মাটি-ঘাসের গন্ধ মেখে জয়ের নেশায় মত্ত শ্রীলঙ্কা। গত ব্যর্থতার যন্ত্রণা ভুলতে চায় এবার স্বাগতিক বাংলাদেশ। নতুন দল আফগানিস্তানের মধ্যেও ভয়ংকর এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে খুঁজে ফিরছে বাকিরা। স্নায়ুপীড়ক তুমুল এক প্রতিদ্বন্দ্বিতারই আভাস দিচ্ছে দ্বাদশ এশিয়া কাপ। আসলে যা এশীয় ক্রিকেটের মহোৎসব।
শ্রীলঙ্কা সদ্যই এই মাটিতে শেষ করেছে তাদের সিরিজ, শেষটা জয়ের ধারাতেই। সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের দলটিকেই তাই হয়তো এগিয়ে রাখা যায়। পাকিস্তান অধিনায়কও এই মতে মাথা দুলিয়েছেন খানিকটা। যদিও বলেছেন, উপমহাদেশের এই কন্ডিশনটা সবার কাছে প্রায় একই রকম। পাকিস্তান-ভারতের তাই উদ্বেগের কিছু নেই। আর বাংলাদেশ? দেশের মাটিতে তারা কতটা ভয়ংকর, সেটি দেখা গেছে ২০১২ এশিয়া কাপেই। ফাল্গুন-চৈত্রের এই সময়টায় উইকেট থাকে শুষ্ক। স্পিন আর স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের বাহাদুরিটাই তখন আসল। যুদ্ধের ভেতরে লড়াইটা তাই কোহলি বনাম আজমল, হাফিজ বনাম অশ্বিন, সাঙ্গাকারা বনাম আজমল বা রোহিত বনাম সাচিত্রা হতেই পারে। হতে পারে মুশফিক বনাম আফ্রিদিও। আফগানিস্তান স্বভাবতই সবচেয়ে পেছনের নাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার অনভিজ্ঞতার কারণেই। তবে অঘটন একটা ঘটিয়ে ফেলা তাদের পক্ষেও খুবই সম্ভব। প্রত্যাশার চাপ না থাকলেই তো কোনো দল উপভোগের মন্ত্রে উজাড় করে দিতে পারে সর্বস্ব।
কিন্তু যে বাংলাদেশ গতবার এমন দাপটে দাঁড়াল ফাইনালে, সম্ভাবনার অঙ্কে তারা কেন এমন পেছনে? কারণ টুর্নামেন্টে নামছে খর্বশক্তির বাংলাদেশ। ঘাড়ের চোট ওপেনার তামিম ইকবালকে ছিটকে ফেলেছে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই। তিন ম্যাচ বহিষ্কারাদেশ কাটিয়ে সাকিব যখন ফিরবেন, বাংলাদেশ দুটি ম্যাচ খেলে ফেলবে ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ওই দুটি ম্যাচেরই ভেন্যু ফতুল্লা। এবার এশিয়া কাপে এই ভেন্যুটা যুক্ত হয়েছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সঙ্গে। রাউন্ড রবিন লিগের প্রথম পাঁচটি ম্যাচ হবে ওখানেই। ফতুল্লাই হয়তো সাজিয়ে দেবে দুই ফাইনালিস্টের গতিপথ। ২ মার্চ থেকে শুরু মিরপুর-পর্ব পর্যন্ত আশাটা ধরে রাখতে পারবে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশের আশাটা আঁকা হয়ে যাচ্ছে এখানেও। অতীতে যখনই বিতর্ক ছুঁয়েছে, সাফল্য দিয়েই সেটির জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। যখনই বড় কোনো খেলোয়াড়কে কেড়ে নিয়েছে চোট, আলো ছড়িয়েছেন অন্য কেউ। ২০১০ সালে তামিম ছিলেন না, তাঁকে ছাড়াই নিউজিল্যান্ডকে ধবলধোলাই করা গেছে। ২০১৩ সালে সেই কিউইরা আবার যখন হলো ধবলধোলাই, ছিলেন না সাকিব আল হাসান।
এবার তামিম নেই, শুরুতে নেই সাকিবও। শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজয়ে ক্লিষ্ট বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাস ঠেকেছে তলানিতে। তবু অতীতই স্বপ্ন দেখায় বাংলাদেশকে। কেন দেখাবে না? মুশফিকের দল যে জানে, মন্দমন্থর পায়ে সন্ধ্যা নামলেও বিহঙ্গরা বন্ধ করে না পাখা

আজ সোমবার সকালে রানা প্লাজার সামনে এক সমাবেশে মমতাজ বেগম এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এখনো অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁদের হাড্ডিগুড্ডি পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ বলছে, ওগুলো গরুর হাড্ডিগুড্ডি। তাহলে যাঁরা নিখোঁজ তাঁদের হাড্ডিগুড্ডি ও কঙ্কাল কোথায় গেল, তা পুলিশ বের করে আনুক।’ মমতাজ বেগম ধসে যাওয়া রানা প্লাজার তৃতীয় তলার নিউ বটমস কারখানার পরিচ্ছন্নকর্মী ছিলেন।
রানা প্লাজায় নিখোঁজ শ্রমিকদের নিহত ঘোষণা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধসে যাওয়া ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নামের একটি সংগঠন। নিখোঁজ ও নিহত শ্রমিকদের স্বজন এবং আহত শ্রমিকেরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সমন্বয়ক তাসলিমা আক্তার, স্বজনদের মধ্যে রুবি বেগম, সাহিদা বেগম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলহাস নাইন।
তাসলিমা আক্তার বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় এখনো অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ও নিহতদের স্বজনসহ আহত অনেকে এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এখনো রানা প্লাজার পেছনের ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্রমিকদের হাড়গোড় ও কঙ্কাল পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পরও জুরাইন কবরস্থানে কবর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডিএনএ প্রতিবেদনেও অনেক অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যাঁদের ডিএনএ প্রতিবেদন মেলেনি, তাঁদের আর ওই প্রতিবেদন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ন্যূনতম তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ শ্রমিকদের নিহত ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
জুলহাস নাইন বলেন, জুরাইন কবরস্থানে ২৯১টি কবর আছে। অন্যদিকে ডিএনএ টেস্টের নমুনা দিয়েছেন ৫৫০ জন শ্রমিকের স্বজন। এই বিস্তর ফারাক ডিএনএ পরীক্ষায় নাানা গরমিলেরই প্রমাণ।
নিহত শ্রমিক শওদাত হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম অভিযোগ করেন ডিএনএ টেস্টে তাঁর স্বামীর সঙ্গে মিলে যায়। তার পরও তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল বের করা হয়।
আগের সন্ধ্যায় তাঁরা ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজের শেষ ম্যাচটি
দেখেছেন হোটেল রুমের টিভিতে। শ্রীলঙ্কান দ্বিতীয় দলটির সঙ্গেও কোনো
প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারল না বাংলাদেশ। এই কি সেই বাংলাদেশ, আগের এশিয়া
কাপের ফাইনালে যারা পরাজয়ের শীতল অনুভূতি প্রায় দিয়েই দিয়েছিল তাদের?
দুই
বছরের ব্যবধানে ঢাকার মাঠে উল্টো পথিক বাংলাদেশকে দেখে এমন উপলব্ধি
পাকিস্তানের হতেই পারে। কিন্তু মিসবাহ-উল-হকের মুখের কথা অন্য রকম। ঢাকায়
আরেকটি এশিয়া কাপে এসে পাকিস্তান অধিনায়ক কাল বললেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার
সঙ্গে খুব ভালো খেলেছে।’ মুশফিকরা এমন প্রত্যয়নে খুশি হতে পারেন। কিন্তু
সবাই বলবে এ তো ‘ভদ্রলোকের খেলা’য় প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানোর সনাতন রীতি।
বাংলাদেশকে শোকাচ্ছন্ন করে গত এশিয়া কাপটা জিতে নিয়ে যাওয়া পাকিস্তান
অধিনায়ক বাংলাদেশ কেন, সবাইকেই সমীহ করেন। এমনকি এবারই এশিয়া কাপ সংসারের
নতুন অতিথি আফগানিস্তানকেও। ‘আফগানিস্তান একটি নতুন, রোমাঞ্চকর দল। তাদের
দিনে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে। তারা অনভিজ্ঞ বটে, কিন্তু মাঠে ঢেলে দেয়
শতভাগ। তাদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা সত্যিই যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ
জানাতে পারে’—আফগানিস্তানকে মূল্যায়ন মিসবাহর। তাঁর কথায় মনে হলো এই
টুর্নামেন্টটা জিততে পারে যে কেউ, ‘সব দলেরই যেকোনো দলকেই হারানোর সামর্থ্য
আছে। দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। গত এশিয়া কাপই সাক্ষী। বাংলাদেশ পর
পর হারিয়ে দিল বড় দুটি দলকে। আমাদেরও প্রায় হারিয়ে দিচ্ছিল।’
সব দলই যদি
সামর্থ্যবান, তাহলে পাকিস্তানের শিরোপা ধরে রাখার সুযোগটা কেমন? অধিনায়কের
ইঙ্গিতে সেই সম্ভাবনা প্রবল। ক্রিকেট ‘আত্মবিশ্বাসের খেলা’, আর গত তিন-চার
মাসে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস জমিয়েই তৈরি হয়ে এসেছে পাকিস্তান, ‘তিন-চার
মাস ধরে ভালো খেলছি আমরা। আসল কাজগুলো ঠিকঠাক করে যেতে পারলেই আমাদের ভালো
সুযোগ থাকবে।’
ওই সময়টায় পাকিস্তান আমিরাতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে
হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। উপমহাদেশের একমাত্র দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে
হারিয়েছে প্রোটিয়াদের। ৩৯ বছর বয়সেও সামনে থেকে দলের জয়ে অবদান রাখছেন
মিসবাহ, ফর্মে ফিরেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। আহমেদ শেহজাদ ভালো করছেন, শারজিল
খান, শোহেব মাকসুদদের মতো তরুণেরা উঠে এসেছেন। মিসবাহ অবশ্য সবচেয়ে ভালো
লক্ষণটা দেখছেন ব্যাটিংয়ের নিচে বিলওয়াল ভাট্টি ও আনোয়ার আলীর মতো তরুণদের
নির্ভরতায়। মোট কথা, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে নিজের দলকে দারুণ তৈরি
মনে করছেন, ‘দলটা খুব ভালো অবস্থায় আছে। আমার ভালো লাগছে, এটি দারুণ
ভারসাম্যপূর্ণ দল। তরুণেরা সিনিয়রদের সঙ্গে মিলে অবদান রাখছে।’
তাহলে
ঢাকায় এবারও শিরোপা জিতবে পাকিস্তান? হতেই পারে। কেননা ঢাকাকে মিসবাহদের
মনে হয় ‘দ্বিতীয় বাড়ি’, ‘এখানে খেলাটা সব সময়ই আনন্দের। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য
কোনো দলের সঙ্গে ম্যাচে মনে হয় লাহোরে খেলছি। এখানে দুবার এশিয়া কাপ
জিতেছি। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জিতেছি।’
এত দিন মিসবাহদের মনে
ঢাকা আলাদা একটা জায়গা নিয়েই হয়তো ছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বরে তাঁদের
পূর্বসূরি ইমরান খান যে এ দেশের আবেগ আর গৌরবকে করলেন আহত! মুক্তিযুদ্ধ ও
যুদ্ধাপরাধ নিয়ে করলেন মিথ্যাচার! এর পরও ঢাকা পাকিস্তানিদের অন্তরে থাকবে?
সোনারগাঁও হোটেলের সংবাদ সম্মেলনে কোচ মঈন খান ও ম্যানেজার জাকির খানের
পাশে বসে আসলে কী উপলব্ধি হলো মিসবাহর?
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রথাগত সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্য কী, প্রতিপক্ষ কেমন—এমন সব প্রশ্নে অধিনায়কেরা সাধারণত নির্দোষ কথাবার্তাই বলে থাকেন। কিন্তু কাল এশিয়া কাপ শুরুর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ফাটালেন বোমা। এশিয়া কাপের দল নির্বাচনের আগে নাকি তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনাই করেনি নির্বাচক কমিটি!
কেউ একজন অধিনায়কের কাছে জানতে চাইলেন, এশিয়া কাপের দল নিয়ে সন্তুষ্ট কি না। তখনই বোমাটা ফাটালেন মুশফিক, ‘একটা জিনিসে একটু অসন্তুষ্ট ছিলাম এবং এখনো আছি। দল করার আগে আমার সাথে আলোচনা করলে মনে হয় ভালো হতো। সেদিক থেকে আমি প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছি। আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও জানতাম না কে দলে ঢুকছে কে বাইরে যাচ্ছে।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘যে দলই দেওয়া হবে সেটা নিয়েই আমাকে খেলতে হবে। তবে অধিনায়ককে অন্তত এতটুকু সম্মান জানানো উচিত। জানি না কোন কারণে তা হয়নি। ভবিষ্যতে যে-ই অধিনায়ক হোক না কেন সে যেন সম্মানটা পায়।’
১৪-১৫ জনের দল সাধারণত নির্বাচকেরাই করে থাকলেও কোচ-অধিনায়কের পরামর্শ নেওয়াটা রীতি। সেই পরামর্শ নির্বাচকেরা গ্রহণ করতে পারেন, নাও পারেন। সেটা জেনেই মুশফিক বলেছেন, ‘আমার মতামত উনি (প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ) নিন বা না নিন সেটা ভিন্ন কথা, তবে আশা করছিলাম আমার সঙ্গে একবার অন্তত কথা বলবেন।’
সেটা না বলায় মুশফিক এতটাই মর্মাহত যে একটু আবেগপ্রবণও হয়ে পড়লেন, ‘খারাপ সময় সব দলেরই আসে। এমন সময়েই আসলে কাছের মানুষদের বোঝা যায়। তখন সবার সাহায্য পেলে খারাপ সময়টা তাড়াতাড়ি পার করা যায়।’ দলে একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন আনাটাকে ‘বিপজ্জনক’ বলেছেন অধিনায়ক। কারও নাম না বললেও বাদ পড়া খেলোয়াড়দের কারও আরেকটু সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
পরশু রাতে দল ঘোষণা করেই সহনির্বাচক হাবিবুল বাশারকে নিয়ে ভারত সফরে গেছেন প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। মুশফিকের অভিযোগ সম্পর্কে তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আরেক নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বলেছেন, ‘দল নির্বাচনের সময় কোচ শেন জার্গেনসেন আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ফিজিও বিভব সিংয়েরও পরামর্শ নিয়েছি আমরা।’ অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কি না, জানতে চাইলে অবশ্য বলেছেন, ‘এটা সাধারণত প্রধান নির্বাচকই করে থাকেন। মুশফিক খেলার মধ্যে ছিল বলে হয়তো সেটা করা হয়নি।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজেভাবে সিরিজ হারায় এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এমনিতেই টালমাটাল দল। সাকিবের বহিষ্কার, চোটের কারণে তামিমকে না পাওয়ায় হাওয়া আরও এলোমেলো। এরই মধ্যে দল নির্বাচন নিয়ে মুশফিকের মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালার মতো। তবে মুশফিক পরিষ্কার করেছেন, তাঁর অভিযোগটা দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে, দল নিয়ে নয়, ‘যে ১৫ জন এসেছে তাদের অভিনন্দন। আমাকে এই ১৫ জনকে নিয়েই খেলতে হবে এবং আশা করব এই ১৫ জনকে নিয়ে আমরা সেরা খেলাটাই খেলব।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হতাশাজনক সিরিজের পর সেরাটা খেলা একটু কঠিনই। মুশফিক নিজেও বাস্তবতা বুঝে বড় কোনো স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, ‘বাস্তবতা চিন্তা করলে সাম্প্রতিক এই পারফরম্যান্সের পর এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়া বা ফাইনালে জেতা খুব কঠিন।’ তবে এটা এক দিক থেকে তাঁর কাছে চাপমুক্তিরও কারণ, ‘খেলোয়াড়দের ওপর চাপ একটু কম থাকবে। সে সুযোগে চেষ্টা করব নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা ফিরিয়ে আনতে। হারি বা জিতি, প্রক্রিয়াগুলো যেন ঠিক থাকে।’
এশিয়া কাপের জন্য যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ দল, প্রত্যাশিত অনেককেই না পাওয়াটাকে সে পথে বড় একটা ধাক্কাই মনে করছেন মুশফিক, ‘যেভাবে পরিকল্পনা করে এগোচ্ছিলাম সে জায়গাটায় আমরা বড় ধাক্কা খেয়েছি, এটা সত্যি। সত্যি বলতে এশিয়া কাপে আমাদের আর হারানোর তেমন কিছু নেই।’ তবে আশঙ্কার কথা, এখন আফগানিস্তানকেও বড় প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে মুশফিকের কাছে। তার পরও এই দলটির বিপক্ষেই সরাসরি জয়ের কথা বলেছেন অধিনায়ক। বাকি তিন দলের বিপক্ষে লক্ষ্য—খুব ভালো ক্রিকেট খেলে গত দেড়-দুই বছরের ধারাবাহিকতায় ফেরা।
ঝড়ের মধ্যে পড়া জাহাজের কাপ্তান মুশফিকুর রহিম। কে জানে, সামনে কতটা বিপৎসঙ্কুল পথ অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য।
আবার এসেছে এশিয়া কাপ। আবারও একটা স্বপ্নের শুরু। এমন নয় যে গত এশিয়া কাপেও শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা। তবে এশিয়া কাপটা সেবার যেভাবে শেষ করেছিলাম, এবারের টুর্নামেন্ট নিয়ে স্বপ্ন দেখাই যায়।
আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো একটা এশিয়া কাপই গেছে গতবার। আমি নিশ্চিত, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমাদের দলের কেউই ভাবেনি যে শেষ পর্যন্ত এ রকম একটা কিছু হবে। কিন্তু টুর্নামেন্টটা শুরু হওয়ার পর যখন আমরা একটা ম্যাচ জিতলাম, তখনই মনে হতে থাকল, আমরা যদি শ্রীলঙ্কাকেও হারাতে পারি, হয়তো একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে। সবারই তখন মনে হতে লাগল, আর একটা ম্যাচ ভালো খেলতে পারলে
সবই সম্ভব। তবে আবারও বলি, টুর্নামেন্টের শুরুতে আমি তো নই-ই, আমার মনে হয় কেউই ও রকম ভাবেনি। হ্যাঁ, ভেবেছিলাম আমরা হয়তো একটা ম্যাচ জিততে পারি। কিন্তু ফাইনালে উঠে যাব, সবার সঙ্গে ভালো খেলব, ও রকম আসলে কেউই ভাবেনি।
শেষ পর্যন্ত শিরোপোর সুবাস নিয়েই ফিরে এলাম। ফাইনালে উঠে যাওয়াটা যেমন আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল, এটাও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে শিরোপার এত কাছে এসে আমরা হেরে গেছি! ওই ম্যাচে আমাদের হারার কোনো কারণই দেখি না আমি। সবই আমাদের পক্ষে ছিল। কিন্তু হয়নি।
তার পরও গত এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স এবার আমাদের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা। এশিয়া কাপের পরের ম্যাচগুলো যদি দেখেন, ওয়ানডেতে বাংলাদেশ খুবই ভালো খেলেছে। এশিয়া কাপ আসলে একটা শুরু ছিল। ওটার পর আমরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। অন্তত দেশের মাটিতে যে আমরা এখন অনেক ভালো খেলতে পারি, সেই বিশ্বাসটা এসেছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারালাম, পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো খেললাম। অনেক বড় অর্জন ছিল এসব আমাদের জন্য। মানসিকভাবে খেলোয়াড়দের অনেক উজ্জীবিত করেছে এটা। আর এই সাফল্যে দলের সবারই অবদান ছিল। যে জন্য দলীয়ভাবেও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় আমাদের। ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সেই আত্মবিশ্বাস হয়তো এবারও আমরা ধরে রাখব। গতবার ফাইনাল খেলেছি, এটা তো মনের মধ্যে থাকবেই। সেদিক থেকে নিশ্চয়ই ইচ্ছা থাকবে, চেষ্টা থাকবে এবারও ফাইনাল খেলি। ভালো খেললে যে আমরা ফাইনালে খেলতে পারি, সেটা তো আগেরবারই প্রমাণ হয়েছে।
ফাইনালকে টার্গেট ধরে এগোনোকে কেউ চাপ হিসেবে নিলে সেটা আসলেই অনেক বড় চাপ। গতবার ফাইনাল খেলেছি, এবারও খেলতে হবে—এ রকম ভাবলে ব্যাপারটা আসলেই একটা চাপ। আবার যদি কেউ এভাবে নেয় যে, গতবার ফাইনাল খেলেছি মানে এবারও তা সম্ভব। ভালো খেললে আমরাও ফাইনাল খেলতে পারব। এখানে চিন্তাভাবনাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কে কীভাবে চিন্তা করবে সেটাই আসল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড় পেয়েছি আমরা। পাইপলাইনে যত বেশি ক্রিকেটার থাকবে একটা দলের জন্য ততই ভালো। ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন অনেকেই পারফর্ম করছে। আগে একটু ভালো খেললেই জাতীয় দলে আসা যেত। এখন জাতীয় দলে খেলতে হলে অনেক বেশি ভালো খেলতে হয়। ধারাবাহিক পারফর্ম করতে হয়। আমার বিশ্বাস, নতুন যারা আসছে সুযোগ পেলে তারা ভালো খেলবে। দলে এখন কেউ এমন নেই যে, হঠাৎ করে এক-দুই ম্যাচ ভালো খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চলে এসেছে। আমাদের ক্রিকেট এভাবেই উঠে আসবে। একসময় দেখবেন যে আমরাও বিশ্বের সেরা দু-তিনটা দলের মধ্যে চলে এসেছি।
গত এশিয়া কাপটা আমার জন্য খুবই ভালো গেছে। চার ম্যাচের তিনটিতেই ফিফটি করেছিলাম। ভারতের বিপক্ষে এক রানের জন্য পারিনি। সবচেয়ে ভালো লেগেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো খেলে দলকে ফাইনালে তোলায় ভূমিকা রাখতে পেরে। ওই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম আমি।
ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারটা আমার জীবনের বড় কষ্টগুলোর মধ্যে একটা। পুরো টুর্নামেন্টে এত ভালো খেলেও ফাইনালে কিনা ২ রানে হেরে গেলাম! ওই হার এমনই হূদয়বিদারক ছিল যে, মাঠে সেদিন আমরা কেউই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আমার মনে হয় আমাদের মতো সেদিন সারা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরই চোখ ছলছল করে উঠেছিল। সাফল্যের এত কাছ থেকে ফিরে আসার ব্যথাটা আসলে কাউকে বলে বোঝানো যাবে না।
এবার এশিয়া কাপের ঠিক আগে আগে শ্রীলঙ্কা সিরিজটা আমাদের জন্য খুব একটা ভালো যায়নি। এটা হতেই পারে। এক-দেড় বছর ধরে আমরা ভালো খেলছি। এই ধারাবাহিকতায় ছোট একটা ছন্দপতন বলতে পারেন এটাকে। তবে আমার বিশ্বাস, শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রভাব এশিয়া কাপে পড়বে না। গত এশিয়া কাপই আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস। এশিয়ার মধ্যে আমরাও যে পারি সেরা হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে, সেই আত্মবিশ্বাস অর্জিত হয়ে গেছে গতবারই। আশা করি, সেটা এবারও ধরে রাখব। পূরণ করতে পারব গতবারের অপূর্ণ স্বপ্ন।
গতবার আমরা রানার্সআপ হয়েছি। এবার স্বাভাবিকভাবেই আরও এক ধাপ ওপরে উঠতে চাইব। তার মানেই তো চ্যাম্পিয়ন হওয়া! আমার কাছে কঠিন কিছু মনে হয় না সেটা। গতবারের চেয়ে একটা ম্যাচ বেশি জিততে হবে, এই তো!
তাপস চন্দ্র সরকার
কুমিল্লার মেধাবী কলেজ ছাত্র শুভ হত্যাকারী বাহার রেজার ফাঁসির দাবিতে
গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানব বন্ধন
অনুষ্ঠিত হয়। মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি
দৈনিক শ্রমিক পত্রিকার সম্পাদক শহিদুল হক সেলিম, দৈনিক শ্রমিক পত্রিকার
স্টাফ রিপোর্টার শাহনাজ মিয়া। উক্ত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক
সেলিম বলেন, কুমিল্লা মহানগরীর ধর্মসাগরের পশ্চিমপাড় এলাকায় ভিক্টোরিয়া
সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র হাবিবুর রহমান শুভকে প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি
করে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শহিদুল হক সেলিমের
দুই পুত্র মেধাবী ছাত্র ওপেল ও রুবেলকে হত্যার চেষ্টা করে কুমিল্লা কুখ্যাত
ভূমিদস্যু, মুক্তিযোদ্ধা নামের কলঙ্ক ও ভূয়া বীর প্রতীক খুনী বাহাউদ্দিন
রেজা। আমরা আজ শুভ এর ২য় মৃত্যু বার্ষিকীতে বাহার রেজার ফাঁসি চাই।
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে । তা কেউ
বাধাগ্রস্থ করতে পারবেনা। আওয়ামীলীগই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে অন্যরা নয়, যার
প্রমাণ দেশের ব্যাপক উন্নয়নের মাঝে ফুটে উঠেছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন
দেখে বিএনপি-জামায়াত জোট দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন
বিষয় নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র করছে, তাদের এসব ষড়যন্ত্র কোনদিন সফল হবে না।
মন্ত্রী ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বাংলাদেশ
রেলওয়ের ৩৬তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলার মানুষ উন্নয়নে
বিশ্বাসী, লুটপাটে বিশ্বাসী নয়। তাই বর্তমান সরকারের উন্নয়নের
ধারাবাহিকতাকে অব্যাহত রাখতে সকলে ঐক্যবদ্ধ থেকে সরকারকে সহযোগিতা করুন।
তাহলে আমাদের দেশ বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ ডিজিটাল
সোনার বাংলায় পরিণত হবে। মন্ত্রী রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে
বলেন, বর্তমান সরকার রেলের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ৩৮টি
প্রকল্পের মাধ্যমে তা আজ দেশের বিভিন্ন ষ্টেশন ও রেললাইন নির্মানের মাধ্যমে
দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। রেল একটি সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা তাই
রেলের সকল যাত্রীদের সঠিক নিরাপত্তা দিতে সকলকে সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।
খেলধুলা‘র পাশাপাশি সকলকে রেলওয়ের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিও মন্ত্রী আহব্বান
জানান। এসময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক
তোফাজ্জল হোসেন, মহা ব্যবস্থাপক(পূর্ব) মোকবুল আহমেদ ও প্রধান প্রকৌশলী
(পূর্ব) এম কে এম মাহবুবুল আলম প্রমূখ। এছাড়াও এসময় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও
বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্দ্বতন কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক: শফিকুল আলম সেলিম।
বার্তা সম্পাদক: এ.আর.আকাশ।
কার্যালয়: বাদুরতলা, কুমিল্লা।
ই-মেইল: desherbarta24@gmail.com
পাঠক সংখ্যা
Channels
Label
Log In
Channels
Channels
Channels
Contributors
Followers
Arsip Blog
-
▼
2014
(193)
-
▼
February
(25)
- বিষ্ণুপুর ডায়াবেটিক সেন্টারে ডায়াবেটিস সচেতনতা দিব...
- কাল রাজবাড়ীতে খালেদা জিয়ার জনসভা
- টস জিতে ফিল্ডিংয়ে লঙ্কা
- মুরাদনগরে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩
- অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ দিন
- টাইমস্ স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া,সাংস্কৃতিক প্রতিযোগি...
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন
- বিবাহের ৩ বছর পর পিতা হলেন সাংবাদিক তাপস চন্দ্র সরকার
- অভিযুক্ত ১০ জনের ছয়জনই নির্দোষ!
- জয় পেল না চেলসিও
- লাকসাম মনোহরগঞ্জ ও দেবিদ্বারে ভোট গ্রহন চলছে
- নাঙ্গলকোটে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর পরিচিত...
- সড়ক দুর্ঘটনায় মনোহরগঞ্জ ছাত্রলীগের সভাপতি নিহত
- প্রতিভা স্কুলের বার্ষিক শিা সফর অনুষ্ঠিত
- সংসদে কুমিল্লায় স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি
- তাজরীনের মালিক দেলোয়ারের জামিন শুনানি ৬ মার্চ
- ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রথম জঙ্গি নিহত
- আজ পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা
- এশীয় ক্রিকেটের মহোৎসব
- ‘আমরা ভিক্ষা চাই না, ক্ষতিপূরণ চাই’
- ঢাকায় আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান
- দল নির্বাচন নিয়ে মুশফিকের বোমা
- আবারও একটা স্বপ্ন
- কুমিল্লায় মেধাবী কলেজ ছাত্র শুভ হত্যাকারী বাহার রে...
- বিএনপি-জামায়াত জোট বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দেখে দিশ...
-
▼
February
(25)
Join the Club
To Cell
AD
AD
AD
Category 3
Powered by Blogger.























