আবার এসেছে এশিয়া কাপ। আবারও একটা স্বপ্নের শুরু। এমন নয় যে গত এশিয়া কাপেও শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা। তবে এশিয়া কাপটা সেবার যেভাবে শেষ করেছিলাম, এবারের টুর্নামেন্ট নিয়ে স্বপ্ন দেখাই যায়।
আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো একটা এশিয়া কাপই গেছে গতবার। আমি নিশ্চিত, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমাদের দলের কেউই ভাবেনি যে শেষ পর্যন্ত এ রকম একটা কিছু হবে। কিন্তু টুর্নামেন্টটা শুরু হওয়ার পর যখন আমরা একটা ম্যাচ জিতলাম, তখনই মনে হতে থাকল, আমরা যদি শ্রীলঙ্কাকেও হারাতে পারি, হয়তো একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে। সবারই তখন মনে হতে লাগল, আর একটা ম্যাচ ভালো খেলতে পারলে
সবই সম্ভব। তবে আবারও বলি, টুর্নামেন্টের শুরুতে আমি তো নই-ই, আমার মনে হয় কেউই ও রকম ভাবেনি। হ্যাঁ, ভেবেছিলাম আমরা হয়তো একটা ম্যাচ জিততে পারি। কিন্তু ফাইনালে উঠে যাব, সবার সঙ্গে ভালো খেলব, ও রকম আসলে কেউই ভাবেনি।
শেষ পর্যন্ত শিরোপোর সুবাস নিয়েই ফিরে এলাম। ফাইনালে উঠে যাওয়াটা যেমন আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল, এটাও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে শিরোপার এত কাছে এসে আমরা হেরে গেছি! ওই ম্যাচে আমাদের হারার কোনো কারণই দেখি না আমি। সবই আমাদের পক্ষে ছিল। কিন্তু হয়নি।
তার পরও গত এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স এবার আমাদের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা। এশিয়া কাপের পরের ম্যাচগুলো যদি দেখেন, ওয়ানডেতে বাংলাদেশ খুবই ভালো খেলেছে। এশিয়া কাপ আসলে একটা শুরু ছিল। ওটার পর আমরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। অন্তত দেশের মাটিতে যে আমরা এখন অনেক ভালো খেলতে পারি, সেই বিশ্বাসটা এসেছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারালাম, পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো খেললাম। অনেক বড় অর্জন ছিল এসব আমাদের জন্য। মানসিকভাবে খেলোয়াড়দের অনেক উজ্জীবিত করেছে এটা। আর এই সাফল্যে দলের সবারই অবদান ছিল। যে জন্য দলীয়ভাবেও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় আমাদের। ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সেই আত্মবিশ্বাস হয়তো এবারও আমরা ধরে রাখব। গতবার ফাইনাল খেলেছি, এটা তো মনের মধ্যে থাকবেই। সেদিক থেকে নিশ্চয়ই ইচ্ছা থাকবে, চেষ্টা থাকবে এবারও ফাইনাল খেলি। ভালো খেললে যে আমরা ফাইনালে খেলতে পারি, সেটা তো আগেরবারই প্রমাণ হয়েছে।
ফাইনালকে টার্গেট ধরে এগোনোকে কেউ চাপ হিসেবে নিলে সেটা আসলেই অনেক বড় চাপ। গতবার ফাইনাল খেলেছি, এবারও খেলতে হবে—এ রকম ভাবলে ব্যাপারটা আসলেই একটা চাপ। আবার যদি কেউ এভাবে নেয় যে, গতবার ফাইনাল খেলেছি মানে এবারও তা সম্ভব। ভালো খেললে আমরাও ফাইনাল খেলতে পারব। এখানে চিন্তাভাবনাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কে কীভাবে চিন্তা করবে সেটাই আসল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড় পেয়েছি আমরা। পাইপলাইনে যত বেশি ক্রিকেটার থাকবে একটা দলের জন্য ততই ভালো। ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন অনেকেই পারফর্ম করছে। আগে একটু ভালো খেললেই জাতীয় দলে আসা যেত। এখন জাতীয় দলে খেলতে হলে অনেক বেশি ভালো খেলতে হয়। ধারাবাহিক পারফর্ম করতে হয়। আমার বিশ্বাস, নতুন যারা আসছে সুযোগ পেলে তারা ভালো খেলবে। দলে এখন কেউ এমন নেই যে, হঠাৎ করে এক-দুই ম্যাচ ভালো খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চলে এসেছে। আমাদের ক্রিকেট এভাবেই উঠে আসবে। একসময় দেখবেন যে আমরাও বিশ্বের সেরা দু-তিনটা দলের মধ্যে চলে এসেছি।
গত এশিয়া কাপটা আমার জন্য খুবই ভালো গেছে। চার ম্যাচের তিনটিতেই ফিফটি করেছিলাম। ভারতের বিপক্ষে এক রানের জন্য পারিনি। সবচেয়ে ভালো লেগেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো খেলে দলকে ফাইনালে তোলায় ভূমিকা রাখতে পেরে। ওই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম আমি।
ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারটা আমার জীবনের বড় কষ্টগুলোর মধ্যে একটা। পুরো টুর্নামেন্টে এত ভালো খেলেও ফাইনালে কিনা ২ রানে হেরে গেলাম! ওই হার এমনই হূদয়বিদারক ছিল যে, মাঠে সেদিন আমরা কেউই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আমার মনে হয় আমাদের মতো সেদিন সারা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরই চোখ ছলছল করে উঠেছিল। সাফল্যের এত কাছ থেকে ফিরে আসার ব্যথাটা আসলে কাউকে বলে বোঝানো যাবে না।
এবার এশিয়া কাপের ঠিক আগে আগে শ্রীলঙ্কা সিরিজটা আমাদের জন্য খুব একটা ভালো যায়নি। এটা হতেই পারে। এক-দেড় বছর ধরে আমরা ভালো খেলছি। এই ধারাবাহিকতায় ছোট একটা ছন্দপতন বলতে পারেন এটাকে। তবে আমার বিশ্বাস, শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রভাব এশিয়া কাপে পড়বে না। গত এশিয়া কাপই আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস। এশিয়ার মধ্যে আমরাও যে পারি সেরা হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে, সেই আত্মবিশ্বাস অর্জিত হয়ে গেছে গতবারই। আশা করি, সেটা এবারও ধরে রাখব। পূরণ করতে পারব গতবারের অপূর্ণ স্বপ্ন।
গতবার আমরা রানার্সআপ হয়েছি। এবার স্বাভাবিকভাবেই আরও এক ধাপ ওপরে উঠতে চাইব। তার মানেই তো চ্যাম্পিয়ন হওয়া! আমার কাছে কঠিন কিছু মনে হয় না সেটা। গতবারের চেয়ে একটা ম্যাচ বেশি জিততে হবে, এই তো!


No comments for: "আবারও একটা স্বপ্ন"
Leave a Reply