
আজ সোমবার সকালে রানা প্লাজার সামনে এক সমাবেশে মমতাজ বেগম এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এখনো অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁদের হাড্ডিগুড্ডি পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ বলছে, ওগুলো গরুর হাড্ডিগুড্ডি। তাহলে যাঁরা নিখোঁজ তাঁদের হাড্ডিগুড্ডি ও কঙ্কাল কোথায় গেল, তা পুলিশ বের করে আনুক।’ মমতাজ বেগম ধসে যাওয়া রানা প্লাজার তৃতীয় তলার নিউ বটমস কারখানার পরিচ্ছন্নকর্মী ছিলেন।
রানা প্লাজায় নিখোঁজ শ্রমিকদের নিহত ঘোষণা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধসে যাওয়া ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নামের একটি সংগঠন। নিখোঁজ ও নিহত শ্রমিকদের স্বজন এবং আহত শ্রমিকেরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সমন্বয়ক তাসলিমা আক্তার, স্বজনদের মধ্যে রুবি বেগম, সাহিদা বেগম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলহাস নাইন।
তাসলিমা আক্তার বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় এখনো অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ও নিহতদের স্বজনসহ আহত অনেকে এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এখনো রানা প্লাজার পেছনের ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্রমিকদের হাড়গোড় ও কঙ্কাল পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পরও জুরাইন কবরস্থানে কবর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডিএনএ প্রতিবেদনেও অনেক অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যাঁদের ডিএনএ প্রতিবেদন মেলেনি, তাঁদের আর ওই প্রতিবেদন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ন্যূনতম তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ শ্রমিকদের নিহত ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
জুলহাস নাইন বলেন, জুরাইন কবরস্থানে ২৯১টি কবর আছে। অন্যদিকে ডিএনএ টেস্টের নমুনা দিয়েছেন ৫৫০ জন শ্রমিকের স্বজন। এই বিস্তর ফারাক ডিএনএ পরীক্ষায় নাানা গরমিলেরই প্রমাণ।
নিহত শ্রমিক শওদাত হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম অভিযোগ করেন ডিএনএ টেস্টে তাঁর স্বামীর সঙ্গে মিলে যায়। তার পরও তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল বের করা হয়।

No comments for: "‘আমরা ভিক্ষা চাই না, ক্ষতিপূরণ চাই’"
Leave a Reply