আগের সন্ধ্যায় তাঁরা ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজের শেষ ম্যাচটি
দেখেছেন হোটেল রুমের টিভিতে। শ্রীলঙ্কান দ্বিতীয় দলটির সঙ্গেও কোনো
প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারল না বাংলাদেশ। এই কি সেই বাংলাদেশ, আগের এশিয়া
কাপের ফাইনালে যারা পরাজয়ের শীতল অনুভূতি প্রায় দিয়েই দিয়েছিল তাদের?
দুই
বছরের ব্যবধানে ঢাকার মাঠে উল্টো পথিক বাংলাদেশকে দেখে এমন উপলব্ধি
পাকিস্তানের হতেই পারে। কিন্তু মিসবাহ-উল-হকের মুখের কথা অন্য রকম। ঢাকায়
আরেকটি এশিয়া কাপে এসে পাকিস্তান অধিনায়ক কাল বললেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার
সঙ্গে খুব ভালো খেলেছে।’ মুশফিকরা এমন প্রত্যয়নে খুশি হতে পারেন। কিন্তু
সবাই বলবে এ তো ‘ভদ্রলোকের খেলা’য় প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানোর সনাতন রীতি।
বাংলাদেশকে শোকাচ্ছন্ন করে গত এশিয়া কাপটা জিতে নিয়ে যাওয়া পাকিস্তান
অধিনায়ক বাংলাদেশ কেন, সবাইকেই সমীহ করেন। এমনকি এবারই এশিয়া কাপ সংসারের
নতুন অতিথি আফগানিস্তানকেও। ‘আফগানিস্তান একটি নতুন, রোমাঞ্চকর দল। তাদের
দিনে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে। তারা অনভিজ্ঞ বটে, কিন্তু মাঠে ঢেলে দেয়
শতভাগ। তাদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা সত্যিই যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ
জানাতে পারে’—আফগানিস্তানকে মূল্যায়ন মিসবাহর। তাঁর কথায় মনে হলো এই
টুর্নামেন্টটা জিততে পারে যে কেউ, ‘সব দলেরই যেকোনো দলকেই হারানোর সামর্থ্য
আছে। দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। গত এশিয়া কাপই সাক্ষী। বাংলাদেশ পর
পর হারিয়ে দিল বড় দুটি দলকে। আমাদেরও প্রায় হারিয়ে দিচ্ছিল।’
সব দলই যদি
সামর্থ্যবান, তাহলে পাকিস্তানের শিরোপা ধরে রাখার সুযোগটা কেমন? অধিনায়কের
ইঙ্গিতে সেই সম্ভাবনা প্রবল। ক্রিকেট ‘আত্মবিশ্বাসের খেলা’, আর গত তিন-চার
মাসে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস জমিয়েই তৈরি হয়ে এসেছে পাকিস্তান, ‘তিন-চার
মাস ধরে ভালো খেলছি আমরা। আসল কাজগুলো ঠিকঠাক করে যেতে পারলেই আমাদের ভালো
সুযোগ থাকবে।’
ওই সময়টায় পাকিস্তান আমিরাতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে
হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। উপমহাদেশের একমাত্র দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে
হারিয়েছে প্রোটিয়াদের। ৩৯ বছর বয়সেও সামনে থেকে দলের জয়ে অবদান রাখছেন
মিসবাহ, ফর্মে ফিরেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। আহমেদ শেহজাদ ভালো করছেন, শারজিল
খান, শোহেব মাকসুদদের মতো তরুণেরা উঠে এসেছেন। মিসবাহ অবশ্য সবচেয়ে ভালো
লক্ষণটা দেখছেন ব্যাটিংয়ের নিচে বিলওয়াল ভাট্টি ও আনোয়ার আলীর মতো তরুণদের
নির্ভরতায়। মোট কথা, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে নিজের দলকে দারুণ তৈরি
মনে করছেন, ‘দলটা খুব ভালো অবস্থায় আছে। আমার ভালো লাগছে, এটি দারুণ
ভারসাম্যপূর্ণ দল। তরুণেরা সিনিয়রদের সঙ্গে মিলে অবদান রাখছে।’
তাহলে
ঢাকায় এবারও শিরোপা জিতবে পাকিস্তান? হতেই পারে। কেননা ঢাকাকে মিসবাহদের
মনে হয় ‘দ্বিতীয় বাড়ি’, ‘এখানে খেলাটা সব সময়ই আনন্দের। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য
কোনো দলের সঙ্গে ম্যাচে মনে হয় লাহোরে খেলছি। এখানে দুবার এশিয়া কাপ
জিতেছি। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জিতেছি।’
এত দিন মিসবাহদের মনে
ঢাকা আলাদা একটা জায়গা নিয়েই হয়তো ছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বরে তাঁদের
পূর্বসূরি ইমরান খান যে এ দেশের আবেগ আর গৌরবকে করলেন আহত! মুক্তিযুদ্ধ ও
যুদ্ধাপরাধ নিয়ে করলেন মিথ্যাচার! এর পরও ঢাকা পাকিস্তানিদের অন্তরে থাকবে?
সোনারগাঁও হোটেলের সংবাদ সম্মেলনে কোচ মঈন খান ও ম্যানেজার জাকির খানের
পাশে বসে আসলে কী উপলব্ধি হলো মিসবাহর?


:d
ReplyDelete